‘ফিলিস্তিন’ একটি ট্র্যাজেডির নাম

Posted: July 15, 2014 in ব্লগ
Tags: ,

লিখেছেন AIR

আপনার একটা বাড়ি আছে, সামনে একটি বাগান, বাড়ির পিছনে একটি পুকুর এবং সাথে কিছু জমি, চাষবাস করার। উত্তরাধিকার সূত্রে আপনি এর বৈধ মালিক। আপনি শান্তিতে বসবাস করছেন, কারো সাথে কোন বিবাদ নাই, দ্বন্দ্ব নাই।

কিছুদিন পর অন্য এলাকা থেকে অপরিচিত কেউ এসে আপনার বাড়ির পাশে আপনারই পতিত জমিতে একটা ঘর তুলল বসবাস করার জন্য। আপনি জানার পর তাকে উচ্ছেদ করতে গেলেন বা ঘর তুলতে বাধা দিলেন। স্থানীয় কোন নেতা, অথবা প্রভাবশালী কেউ বা হতে পারে স্থানীয় কোন গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে সে ব্যক্তি গেল এই ঝামেলা নিয়ে আপনি যাতে তাকে উচ্ছেদ না করেন এবং তাকে একটু থাকতে দেন এই আবেদন নিয়ে।

আপনার জায়গা দখল করে বাড়ি তৈরি করা সেই ব্যাক্তি ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কিছু বলল, সে খুব অসহায়, থাকার জায়গা নেই, তার একটু আশ্রয় খুব দরকার, অনেক অনুনয় বিনুনয় করল, সেই প্রভাবশালীর হাতে পায়েও ধরল, দুফোটা চোখের পানিও ফেলল। (পর্দার আড়ালে সে মীমাংসাকারীকে কিছু নগদ নারায়ণ বা তোফাও দিল, এবং তার যে কোন আদেশ নির্দেশে সাথে থাকবে বলে অংগীকারও করল)।

আপনি দয়াপরবশ হয়ে এবং ঐ প্রভাবশালী মান্যগণ্যের কথার প্রতি সম্মান দেখিয়ে অসহায় লোকটিকে আপনার জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করতে দিলেন।

কিছুদিন পর তার কিছু আত্মীয় স্বজন একইভাবে আপনার আশেপাশে বসবাস করা শুরু করল। তাদের দেখাদেখি তাদের নিকটাত্মীয়রাও কেউ জায়গা কিনে কেউ পতিত জায়গা দখল করে বসবাস করা শুরু করল। এভাবে ক্রমে তাদের সংখ্যা বেড়ে গেল এবং তাদের প্রভাব ও অন্যান্য কর্মকান্ডও বেড়ে গেল।

কিছুদিন পর আপনার খামারের গরুটা চুরি গেল। এর কিছুদিন পর আপনার পুকুরের সব মাছ কে যেন বিষ দিয়ে মেরে ফেলল। একদিন হঠাৎ দেখেন আপনার সবজি বাগানের সব গাছ কেটে ফেলে রেখেছে কেউ। একদিন আপনি হাতে নাতে ধরে ফেললেন যাকে থাকতে দিয়েছিলেন তাকে আপনার ক্ষেতের ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে দেখে। আপনি তাকে ধরে উত্তম মধ্যম কিছু দিলেন। সে স্থানীয় শালিসে গেল আপনার বিরুদ্ধে নালিশ নিয়ে। সেখানে গিয়ে জানলেন সেই ব্যাক্তি দাবি করছে সে আপনার জমি থেকে ফসল কাটেনি, বরং ওটা তার নিজের জমি। সে আপনার থেকে ঐ জমি কিনেছে। সে তার দলিলও দেখালো (জাল অবশ্যই)। আপনার আক্কেল গুডুম। এও কি সম্ভব। তবে আপনার আরো শিক্ষার বাকি ছিল। সালিশে রায় হল ঐ জমি তারই, আপনি অযথা তাকে হয়রানি করছেন! তাকে হেনস্তা করায় আপনার কিছু জরিমানাও হল, আপনার যে জায়গায় তাকে থাকতে দিয়েছিলেন সেটার দাবি ত্যাগ করতে হল।

এখানেই শেষ নয়। কিছুদিন পর দেখলেন সে আপনার পুকুরটা দখল করেছে এর চারপাশে বেড়া দিয়ে। আপনি বাধা দিতে গেলে তার সাথে আপনার মারামারি লেগে গেল। এতদিনে ঐ ব্যাক্তি দলে বলে ভারি হয়েছে। তার সাথে স্থানীয় কিছু মাস্তান ভাড়াটে এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী যোগ দিয়েছে। মারামারিতে আপনার পরিবারের দু একজন সদস্য নিহত ও আহত হল। আপনি কোর্টে মামলায় যেতে চাইলেন। কিন্তু আপনাকে হুমকি দেয়া হল থানা পুলিশ কোর্ট করলে আপনার বংশ নির্বংশ করে দেয়া হবে। ভয়ে আপনি আর সে পথে পা বাড়ালেন না। পুকুর হাতছাড়া হল।

এভাবে একের পর এক আপনার সহায় সম্পত্তি হারালেন। মারামারিতেও পেরে না উঠে আপনি আর্থিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল থেকে আরো দুর্বল হতে লাগলেন।
এর কিছুদিন পর ঐ লোকের। কোন এক সাংগাত আপনার বাড়ির জায়গা দখল করে বাড়ি করা শুরু করল। আপনার এখন বাধা দেয়ারও ক্ষমতা নাই। একদিন আপনার কোন এক ছেলের সাথে তাদের ছেলেপুলেদের সাথে এসব জায়গা জমি নিয়ে কথা কাটাকাটি হল। তারা দলেবলে এসে আপনার বাড়ি ঘরে আগুন দিল। আপনার ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলল। আপনি প্রতিবাদ করলেন। তারা আপনাকে সন্ত্রাসী, সমাজবিরোধী, উগ্র, আইন বিরোধী, অসভ্য, ইত্যাদি নানা গুণে ভুষিত করল। আর তার এখন অর্থ, ক্ষমতা ইত্যাদি থাকায় স্থানীয় মোড়ল, সাংবাদিক, সবাই আপনার বিরুদ্ধে তাদের ভাষায় তাদের সাথে কোরাস মিলাল।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের অনেক জায়গায়ই অনেক ভূমি দুস্যের কবলে পরা পরিবারের সাথে মিলে যায়। কিন্তু ইন মাইক্রোস্কোপ, এটিই হচ্ছে সেই কৌশল যার মাধ্যমে ইহুদিরা ফিলিস্তিনিদের ভূমি গ্রাস করছে, তাদের ভূমি থেকে উৎখাত করছে সেই গত শতাব্দীর শুরু থেকে, তাদেরকে নিজ ভূমে পরবাসী করছে, তাদের উদ্বাস্ত ক্যাম্পের জীবনে ঠেলে দিয়েছে, প্রতিবাদ করলে মেরে ফেলছে এবং প্রতিবাদের ও আত্মরক্ষার অধিকারটুকুও হরণ করেছে নানা ভাবে। আপনার জায়গায় একজন ফিলিস্তিনিকে কল্পনা করুন, আপনার জায়গা সম্পদ দখলকারীর স্থানে একজন ইহুদি আর ওই প্রভাবশালীর স্থানে ব্রিটিশ রাজ। এই রকমের ঘটনা ঘটেছে লার্জ স্কেলে কয়েক যুগ ধরে, মূল মিডিয়ার আড়ালে, আর বিশ্ব শক্তির গোপন ও প্রকাশ্য ছত্রছায়ায় আর ফিলিস্তিনিরা যাদেরকে বন্ধু, নিকটজন ভাবত তাদের নিষ্ক্রিয়তা, অক্ষমতা আর পরিস্থিতি বুঝার অক্ষমতায়। এ প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের ভূমির মালিকানা চলে এসেছে ৮৫ ভাগ থেকে মাত্র ৬ ভাগে আর শুধু ৪৭/৪৮ এর নাকবাতেই সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের নিজ ভূমি থেকে খেদিয়ে দিয়েছে ইজরায়েল!

আপনি কি করবেন? ধীরে ধীরে জায়গা জমি, সন্তান সন্ততি, মান সম্মান সব হারিয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলবেন আর সৃষ্টিকর্তাকে ডাকবেন। নাকি তাদের এ ধূর্ততা, শঠতা আর সুপরিকল্পতিত অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করবেন? আর প্রতিবাদ করলে তার ধরণটা কেমন হবে? প্রবাদে আছে লোহা কাটতে লোহা লাগে আর হলুদ বাটতে খিল লাগে। কিন্ত আপনার শত্রু যখন আপনার উপরে আধুনিক সমরাস্ত্র আর প্রশিক্ষিত বাহীনি নিয়ে হামলা করছে আপনি প্রতিরক্ষায় দু একটা নিরীহ রকেট আর গুলতি দিয়ে পাথর ছুড়লে তা হয়ে যাচ্ছে মারণাস্ত্র!

শুধু তাই নয়, যাদেরকে আপনি একসময় আশ্রয় দিয়েছিলেন তারাই যদি আপনার জীবন ও সম্পদ গ্রাস করে আপনাকে নিশ্চিহ্ন করার সব কৌশল আর অস্ত্র প্রয়োগ করে, তখনও কি আপনার প্রতিবাদ করাটা সন্ত্রাসী, জংগী ও হিংসাত্মক কর্মকান্ড?

আপনার ( ফিলিস্তিনীদের) ট্রাজেডি এখানেই শেষ নয়। আপনার জন্য সবচে বড় ট্রাজেডি হচ্ছে আপনার স্বজাতির, এবং তথাকথিত মানবতাবাদীদের অনেকেই এখন আপনার শত্রুদের পক্ষ নেয়, আপনি সিস্টেমেটিক অপরাধের স্বীকার নন বরং আপনিই অপরাধী তা শুধু বলেই না প্রচারও করে এবং আপনারাই বিশৃংখলাকারী ও বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি তা বিশ্বাস করে এবং ক্ষমতা, প্রচারমাধ্যম ও নানা ভুয়া তথ্য, খোড়া যুক্তি ব্যবহার করে আপনাকেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য করে!!
তাদের হেইট স্পিচ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা এখন বলে গাজা বা পশ্চিম তীরে প্রতিটি শিশুরই জন্ম হয় সন্ত্রাসী হিসেবে, ফিলিস্তিনের প্রতিটি নারি সন্ত্রাসীদের জন্মদাত্রী আর তাদের জন্মই হয়েছেইসরাইলের বোমা বা IDF এর গুলিতে অবধারিত মৃত্যর জন্য! আর তাই ফিলিস্তিনের বাতাসে লাশের গন্ধ, ইহুদীদের নি:শ্বাসে নি:শ্বাসে রক্তের দাপাদাপি।।

এই সব নয়া মানবতাবাদী, মুক্তমনারা আপনার নিজের চেয়েও আপনার অবস্থাকে বেশী বুঝে (!) তারা চমস্কি, সাইদ, আইনস্টাইন ( যিনি নিউইয়র্ক টাইমসে op-ed ইসরাইলের গণহত্যার নিন্দা করে লিখেছিলেন) এর চেয়েও বেশী পন্ডিত এবং তাদের যুক্তি ও ভাষা ঐ ইহুদীদের বর্বরতার চেয়েও ভয়ংকর। কারণ ইহুদিরা ঘোষণা দিয়েই আপনার শত্রু, কিন্তু সুশীলতার রং মাখানো স্বজাতীয় এসব তথাকথিত সেলিব্রেটিরা ভেতর থেকে, পেছন থেকে, আপনার সাথে মিশে থেকে আপনাকে জ্ঞান দিচ্ছে, ইসরায়েলের কর্মকান্ডকে জায়েজ বলছে।

এরা নিজের বিবেক এবং মূল্যবোধকে এতটাই বিকিয়ে দিয়েছে, এতটাই দাসানুদাসে পরিনত হয়েছে যে যদি ইসরাইলের তা তার দোসরদের নিক্ষিপ্ত কোন বোমা বা মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বা স্পট করেও এদের উপর পতিত হয় তখনও এরা বলবে ‘ ইট ওয়াজ এ ফ্রেন্ডলি ফায়ার’!!!
বাট ওয়ান থিং টু রিমেমবার দি জায়নিস্টস- হিস্টরি ইজ এ সার্কুলার প্রসেস। সো হোয়েন ইট কামস এরাউন্ড, দ্যাট উইল বি জাস্টিফাইড পে-ব্যাক টু ইউ ফর অল ইউর ক্রাইমস: , স্ট্রাকচারাল পারসিকিউশন, ব্রুটালিটি, এপারথিড এন্ড এথনিক ক্লিনজিং!!

 

Advertisements
Comments
  1. We had been given an improved iPhone 4 rather.

    When Mike’s wife stayed at house, she did the working day-to-day chores and errands.

    On leading of that, there might be still an huge buglist in installer.

    Like

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s