ফিলিস্তিন সংকট: মুসলিম উম্মাহর করণীয়

Posted: July 15, 2014 in ব্লগ
Tags: , ,

লিখেছেন আমান মাহবুব

পর্ব-১
যতদিন মুসলমানরা জ্ঞান ও যোগ্যতায় পশ্চিমাদের তুলনায় অগ্রসর হতে পারবে না, ততদিন প্যালেস্টাইনের এইসব বর্বর গণহত্যার মতো ঘটনার শিকার তারা হয়েই যাবে। অবৈধ ইজরায়েল রাষ্ট্র জন্ম নিয়েছে খুব বেশি সময় হয়নি। এর ভেতরেই তাদের উইপন ইন্ডাস্ট্রি শক্ত অবস্থানে দাড়িয়ে গিয়েছে। উজি সাবমেশিনগান আর ডেজার্ট ঈগলের মতো কোয়ালিটি হ্যান্ডগান সহ ট্যাংক, এপিসি, এমুনিশন এসব তারা নিজেরাই বানায়। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এডভান্সড রিসার্চ হয়। আর মুসলিমের দল দুম্বা দিয়ে ভরপেট ইফতার খেয়ে চিত হয়ে পড়ে থেকে বিশ্বকাপ অথবা হিন্দি সিনেমা দেখে যায়। ইহুদী রাবাইদের এক রাখার জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। এমনকি যেইসব ইহুদিরা জায়নিস্টদের বিরুদ্ধে বলে, তাদের ওরা ইগনোর করে যায়। বেশি একটা কনফ্লিক্টে যায় না। আর মুসলিমদের প্রথম কাজ হলো নিজেদের মধ্যে মারামারি করা। পৃথিবীটা যোগ্যতমদের জন্য। সুতরাং যুদ্ধ-বিগ্রহে আপাতত বিজয়ী ওরাই হবে। এটা স্বাভাবিক।

আর মাঝখান দিয়ে বলি হয়ে যায় নিস্পাপ শিশু আর নিরীহ মানুষজন। নারী বৃদ্ধ যুবক। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া মানুষগুলোর ছবির দিকে তাকানো যায় না।

ইজরায়েলের দখলদারী আর বর্বরতার জন্য পুরো ইহুদী ধর্মকে দায়ী করি না। বর্তমান পৃথিবীতে যদি ওহাবী ভিটামিনপুষ্ট আল-কায়েদার জিহাদী দল কোনরকম অলৌকিকভাবে জ্ঞানবিজ্ঞানে এগিয়ে যায় এবং প্রমিজড ল্যান্ড চিন্তা করে একটা দেশ বানিয়েই ফেলে, যার একটা জগাখিচুড়ি প্রটোটাইপ অলরেডি সউদ রাজবংশ সউদী আরবে বানিয়ে রেখেছে, তখন সে দেশটা যে ধরণের আচরণ করবে, ইহুদীদের আল-কায়েদা গ্রুপ ‘জায়নিস্ট’রাও ঠিক একই আচরণ করছে।

জায়নবাদিদের প্রটোকল গুলো পড়লে বুঝা যায় তারা কতটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বকে শাসন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা এক বা দুই প্রজন্মের জন্য না, বরং চিরকালের জন্য। মুসলিমদের অনেক ভালো ভালো টেক্সট আছে, তবে তা ঐ কিতাবের পাতা পর্যন্তই। কিন্তু ইজরায়েলীরা তাদের নিজেদের বানানো অল্প কিছু টেক্সটের প্রতিই অনেক বেশি ডেডিকেটেড।

যেই দার্শনিক ভিত্তির উপর অবৈধ ইজরায়েল রাস্ট্র প্রতিষ্ঠিত, জায়নবাদীদের সংবিধান সেই প্রটোকলে ইহুদী ছাড়া অন্যদেরকে, আমাদের সবাইকে ‘গয়িম’ অর্থ্যাৎ পশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মানুষ না। কেউ যখন অন্য একদল মানুষকে মানুষ না মনে করে পশু মনে করে, তখন তাদের হত্যা করা অথবা যা ইচ্ছা তাই করা সহজ হয়ে যায়। এ কাজ হিটলার করেছিলো জার্মানীতে ইহুদিদের সাথে। হুটুরা করেছিলো রোয়ান্ডাতে টুটসিদের সাথে। আওয়ামী শাহবাগিরা করেছে বাংলাদেশে জামায়াত শিবিরের সাথে। এভাবে ডিহিউম্যানাইজ করে হত্যা করলে, সে হত্যাকান্ড তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করা যায়। তখন লগি বৈঠা দিয়ে পিটানোর দৃশ্য দেখে আনন্দ পাওয়া যায়। অথবা সাধারণ মানুষদের ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার জন্য ক্রমাগত বোম্বিং দেখতে দেখতে পাহাড়ের উপর বসে থেকে বিনোদন নেয়া যায়।

জায়নিস্টদের চব্বিশ ধারাওয়ালা সে কোড ‘প্রটোকলস অভ এলডার জায়ন’ এ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মিডিয়ার উপর। ভবিষ্যতের পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়ার জন্য ইহুদীদের হাতে পৃথিবীর প্রেস ইন্ডাস্ট্রির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। সে পরিকল্পনা তাদের সফলও হয়েছে। এমনকি বর্তমান শক্তিশালী একটা মিডিয়া, উইকিপিডিয়াতে প্রটোকল এর বিষয়টাকে একটা হোক্স হিসেবে বর্ণনা করা আছে। ঠিক যেমনভাবে শাহবাগির দল উইকিপিডিয়াতে তাদের সুবিধামতো বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে রেখেছে। আবারও সে পুরাতন কথা। বাংলাদেশের শাহবাগি-বিরোধীরা জ্ঞান ও যোগ্যতায় এগুতে না পারলে যেমন ভবিষ্যতের কোন আশা করার সুযোগ নেই, পৃথিবীর মুসলমানদের জন্যও একই কথা।

পর্ব-২
গাজা স্ট্রিপে যখন বর্বর গণহত্যা চলছে সেই মুহুর্তে বলছিলাম, আমাদের জ্ঞান ও যোগ্যতায় এগুনো দরকার। আগের সে স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় বেশ কিছু ব্যাঙ্গাত্বক কথাবার্তা ও দ্বিমতসুচক মন্তব্য দেখলাম। দ্বিমত থাকতেই পারে। তার সাথে আমিও আরো কিছু বাড়তি মতামত যোগ করে রাখি।

১. দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজনের কথা বলার অর্থ এই না যে, বর্তমানে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ, আক্রমণ এবং বিভিন্ন ধরণের সাপোর্টের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছি। এইটা অপব্যাখ্যা। নির্বোধ ও সুযোগসন্ধানীদের পুরনো অভ্যাস।

২. দীর্ঘ সময়ের কৌশল করার কথা বলার অর্থ এই না যে ওখানেই আমরা জায়নবাদিদের প্রটোকল বা কৌশল ফলো করছি। বরং যে কোন বুদ্ধিমান ও সফল দলের কৌশলই এটা। জায়নবাদিরা এখন ওটা ফলো করছে তার অর্থ এই না যে তা ওদের নিজস্ব সম্পত্তি হয়ে গেলো।

৩. সভ্যতা কখনো সুপারফাইটারদের হাত দিয়ে গড়ে উঠেনা। জোর করে বললেই হয় না। সভ্যতা গড়ে উঠে জ্ঞানের উপর। ফাইটাররা ওখানে একটা খুঁটি। দরকারী খুঁটি। হাত-পা’য়ের মতো। মস্তিস্কের স্থানে না। আর বাংলাদেশের জযবা-উজ্জীবিত অন্ধের দল যদি মস্তিস্কের ভূমিকা নেয়, তখন যে কি হতে পারে তা তো চোখের সামনে দেখাই যাচ্ছে। অথচ এমনই নির্বুদ্ধিতা, চোখের সামনে দেখেও এরা দেখে না।

শেষকথা হলো, টোটকা চিকিৎসা দিয়ে কখনো ভালো কিছু হয়না। যতদিন হাতুড়ে চিকিৎসার টোটকা পুলটিশ লাগানোর অভ্যাস দূর হবে না ততদিন আমাদের নির্বুদ্ধিতার মাসুল দিয়ে যাবে নিরীহ নারী আর শিশুর দল।

 

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s