ইসরাইলী প্রোপাগান্ডা এবং গাজায় প্রতিশোধের রাজনীতি

Posted: July 19, 2014 in সাক্ষাৎকার
Tags: , , , ,

ট্রান্সক্রিপ্ট ও অনুবাদ করেছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

Israeli-Propaganda-and-the-Politics-of-Revenge-against-Gazaকিভাবে তিন জন ইহুদি কিশোরকে হত্যার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তার জনগণকে প্রভাবিত করে ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাচ্ছে তা উঠে এসেছে আলি আবুনিমাহ এবং ম্যাক্স ব্লুমেনথালের আলোচনায়।

আলি আবুনিমাহ হচ্ছেন ইলেকট্রনিক ইনতিফাদার সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ‘দ্য ব্যটল ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ বইয়ের লেখক।

ম্যাক্স ব্লুমেনথাল যিনি একজন পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক এবং একটি বেস্ট সেলার (সর্বাধিক বিক্রিত) বইয়ের লেখক। তার সর্বশেষ বই হচ্ছে ‘গোলিয়াথ: লাইফ এন্ড লোদিং ইন গ্রেটার ইসরায়েল’।

গত ১১ জুলাই দু’জনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি প্রচার করেছে কানডার বাল্টিমোর থেকে পরিচালিত ডেইলি ভিডিও নিউজ ও প্রামাণ্যচিত্র (ডক্যুমেন্টারি) প্রচারের সংবাদ সংস্থা ‘দি রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্ক’ এর ওয়েবসাইট ‘দি রিয়েলনিউজ’ ডট কম।

আবুনিমাহ এবং ম্যাক্স ব্লুমেনথালথের আলোচনায় সঞ্চালচক ছিলেন দি রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্ক -এর প্রযোজক এন্টন ওরোনযাক

এন্টন ওরোনযাক: এক লাখেরও বেশি গাজাবাসীকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২১ জনের মত ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে যার বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
এ ব্যাপারটা নিয়ে বিশ্লেষণ করার জন্য জনাব আলি আবুনিমাহ ও ম্যাক্স ব্লুমেনথাল আপনাদের দুজনকে রিয়াল নিউজ নেটওয়ার্কে স্বাগতম। ।

আলি আবুনিমাহ: আপনাকে ধন্যবাদ।
ম্যাক্স ব্লুমেনথাল: আপনার সাথে থাকতে পেরে ভালো লাগছে।

ওরোনযাক: ম্যাক্স, আপনাকে দিয়ে শুরু করি। ১ লাখ গাজাবাসীকে সরে যাওয়ার হুমকি নিয়ে শুরু করি। আপনি কি মনে করেন স্থলপথে আক্রমণ আসন্ন?

ম্যাক্স ব্লুমেনথাল: গাজা উপত্যকায় যেসব ফিলিস্তিনি বসবাস করছে তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই শরণার্থী। ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে যেসব ফিলিস্তিনীকে সরিয়ে বর্তমান ইসরাইল হয়েছে তাদের উত্তরসূরী এসব শরণার্থী। এখন তাদেরকে বলা হচ্ছে এখান থেকেও সরে যাওয়ার জন্য। তাদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই। বোমার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য কোন আশ্রয় কেন্দ্র নেই গাজাতে। এই শরণার্থীদের কোথাও পালানোরও জায়গা নেই। মিশরে সেনা অভ্যুত্থোনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মিশরে প্রবেশ করতেও দিবেনা। তাই এটা আরেকটা মানববিপর্যয় হতে যাচ্ছে যেটা ইসরাইল প্রতি দুবছর পরপরই এই গাজা উপত্যকায় ঘটিয়ে থাকে।

সামরিক আগ্রাসনের ব্যাপারে অনেক তর্জন গর্জন শুনেছি। শোনা যায় ১০ হাজার সৈন্য নিয়ে স্থল পথে আক্রমণ করবে ইসরাইল। ইসরাইলি জোট সরকারের ডানপন্থী অংশটি আক্রমণ করার জন্য নেতানিয়াহুকে উসকে দিচ্ছে। তারা এটাকে প্রতিশোধের সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ওই সব ইসরাইলিরা তাদের ফেসবুকে মৃত্যুর বদলা নেয়ার জন্য পোস্ট দিয়ে যাচ্ছে এবং টুইটারেও একই অবস্থা। সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী গাজা থেকে হামাসের রকেট নিক্ষেপ দমন করতে চাচ্ছে এবং যত সম্ভব উচ্চপদস্থ হামাস নেতাদেরকে হত্যা করতে চাচ্ছে।

এটা দেখে মনে হচ্ছে সামরিক বাহিনীগুলো ফিলিস্তিনের উপর হামলার পক্ষেই অবস্থান করছে। এখন আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আগামী দুয়েকদিনে ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয়।

ওরোনযাক: আচ্ছা। আলি, গাজায় আক্রমণের ব্যাপারে ইসরাইলের কৌশলগত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আপনি কি মনে করছেন?

আলি আবুনিমাহ: আমি মনে করি ম্যাক্স ঠিক বলেছেন যে এটা আসলে বড় একটা প্রতিশোধ নেয়ার তৃষ্ণা। ইসরাইলি জনগণের মধ্যে রক্ততৃষ্ণা বেড়ে গেছে এবং তারা অনেক ফিলিস্তিনীর রক্ত দেখতে চায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে ইসরাইলি নেতাদের মুখ থেকে যুদ্ধের হুমকি চরম সীমায় পৌছেছে। ইসরাইলের রক্তপিপাসা এতই ভয়ানক অবস্থায় পৌঁছেছে যে তারা সাধারণ বেসামরিক লোককে হত্যা করে তাদের পিপাসা মেটাচ্ছে।

১০ জুলাই রাতে যেমন গাজার ফান টাইম বিচ ক্যাফেতে ইসরাইল বোমা হামলা করেছে যেখানে ফিলিস্তিনী তরুণরা খেলা দেখতে একত্রিত হয়েছিল। আশেপাশের ভয়াবহতা থেকে বাঁচার জন্য কিছু সময়ের জন্য আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডের মধ্যে সেমিফাইনালে মজে থাকতে চেয়েছিল।

ইসরাইল সেখানে বোমা নিক্ষেপ করেছে এবং এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী সেখানে ৯ জন নিহত হয়েছে। নিহত আহতদের শরীর ছিন্নবিন্ন হয়ে পড়েছিল বিচটিতে। আপনারা জানেন প্রায় ২২ জনেরও বেশি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এই হতাহতের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ হলো: ‘গাজার আবাসিক ভবনগুলোকে টার্গেট করা এবং সেগুলোকে ধ্বংস করার কারণে এই বেসামরিক হত্যাযজ্ঞ চলছে।’

কিন্তু ইসরাইলি মূলধারার মিডিয়াগুলোতে প্রচার করা হচ্ছে যে ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে। কিন্তু সত্যি ঘটনা হলো গতকালই ১৫০টি ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এটা একটি সম্মিলিত শাস্তি। এটি একটি যুদ্ধাপরাধ। তারা পারিবারিক বাসা বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে যেগুলোকে ইসরাইল সন্দেহ করছে যারা সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি করতে গিয়ে ইসরাইল বিভিন্ন পরিবার ও শিশুদেরকে হত্যা করছে।

এটা খুবই কষ্টের বিষয় যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত বলছেন ফিলিস্তিনিরা মৃত্যুকে উদযাপন করে। কেউই মৃত্যুকে উদযাপন করেনা। এরকম নিষ্পাপ মানুষের মৃত্যু কেউই উদযাপন করেনা ইসরাইলি মন্ত্রীরা ছাড়া যারা এর হুকুম দিয়েছেন। আর তাদের সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে উচ্ছৃঙ্খল জনতা যারা জেরুজালেম ও তেল আবিবের রাস্তায় স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে ‘আরবদের মৃত্যু হউক’।

ওরোনযাক: আচ্ছা ম্যাক্স, আক্রমণের উছিলা যেটা এখন আর উচ্চারিত হচ্ছেনা সেটা হলো তিন ইসরায়েলি কিশোর হত্যাকাণ্ড যার পেছনে হামাস জড়িত রয়েছে বলে দাবি করছে ইসরাইল। এটা নিয়ে প্রথমদিকে ইসরাইলি মিডিয়া ও সরকার হিজিবিজি খেলেছে। এটা নিয়ে কিছু বলুন।

ব্লুমেনথাল: এটা সংক্ষেপে বলছি। মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এমনভাবে ঘটনাগুলো সম্প্রচার করছিল যেন ঘটনাটি হাওয়া থেকে ঘটেছে এবং হামাসই এসব কিছুর উস্কানিদাতা। তিন ইসরাইলি কিশোরের কিডন্যাপের ঘটনা ঘটেছে ১২ জুন। তখন নেতানিয়াহুর উপর অনেক চাপ যাচ্ছিল। হামাস আর ফাতাহের মধ্যে ঐক্যের চুক্তিটি ভাঙ্গতে চাচ্ছিলেন নেতানিয়াহু। হামাস ও ফাতাহর চুক্তিটি নেতানিয়াহু ও তার কাছের মহলের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়ায় যেটা যুক্তরাষ্ট্রও লক্ষ্য করেছে। গত ১৫ মে দুজন ফিলিস্তিনী তরুণ খুন হয় বেইতুনিয়াতে। যেটা সিসিটিভি ক্যামেরা ও সিএনএন এর ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচডগ এটাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। নেতানিয়াহু আলোচনার বোল পাল্টাতে চাইলেন।

এর মধ্যে ইসরাইলি কিশোরদেরকে অপহরণ করা হলো। পুলিশের কাছে কিশোরদের করা ফোন কলের রেকর্ড থেকে গুলির আওয়াজ শুনা যায়। এটা মোটামুটি পরিস্কার অপহরণের সাথে সাথেই ওই ইসরাইলি কিশোরদের হত্যা করা হয়েছিল। নেতানিয়াহু এই সুযোগটাই গ্রহণ করলেন তাদের প্রোপাগাণ্ডার জন্য। হামাস তিন কিশোরকে অপহরণ করেছে, তিন কিশোরই জীবিত আছে এমন মিথ্যা কথা বলেছে কিশোরদের পরিবারের সাথে। এতে হামাসের প্রতি ঘৃণা পুঞ্জিবিত হয়েছে।

এদিকে অপহরণের সত্যি খবর প্রচার করা থেকে ইসরাইলি মিডিয়াদেরকে বিরত রেখেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও শিন বেট গোয়েন্দা সংস্থা। এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্ত প্রকাশ না করে ইসরাইলি জনগণকে এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে ওই কিশোররা তখনো জীবিত আছে। এদিকে ইসরাইলি বাহিনী পশ্চিম তীরে তন্ন তন্ন করে ১৫ হাজার ফিলিস্তিনীদের বাড়ি ঘর তল্লাসী করেছে। কোন ধরেণের অভিযোগ ছাড়াই ৫৬০ ফিলিস্তিনীকে গ্রেফতার করেছে এবং ৬ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করেছে। ইসরাইলিরা মনে করছিল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। এদিকে নেতানিয়াহু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এই প্রোপাগান্ডা চালিয়ে গেছে যে তারা তাদের ছেলেদেরকে উদ্ধার করছে যেখানে এটা নিশ্চিত জানতো যে তারা অনেক আগেই মারা গেছে। তারা ইসরাইলি জনগণকে প্রতিশোধ স্পৃহায় উন্মাদ করে তোলে। যখন ছেলেদের লাশ পাওয়া গেল তখন ইসরাইলিরা প্রতিক্রিয়া দেখালো এবং ইহুদি ইসরাইলিরা চরম প্রতিক্রিয়া দেখালো। উচ্ছৃঙ্খল জনতা জেরুজালেমের রাস্তায় এসে স্লোগান দিতে লাগলো ‘আরবদের মৃত্যু হউক’। এই স্বতস্ফূর্ত বর্ণবাদী র্যা লিতে তরুণদের একটি দল দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে গেল তরুণ ফিলিস্তিনীদেরকে অপহরণ করার জন্য। তারা ১৭ বছরের মোহাম্মদ আবু খোদায়েরকে পেল এবং তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারলো। তাকে প্রথমে গ্যাসোলিন খেতে বাধ্য করলো এবং তারপর আগুন ধরিয়ে দিল। এরপর জঙ্গলে লোশ ফেলে দিয়ে গেল। তারপর থেকে অবস্থার অবনতি ঘটতে লাগলো। নেতানিয়াহু সবকিছুর জন্য হামাসকে দোষী ঘোষণা করলো এবং একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাদেরকে ‘মানব পশু’ বলে অভিহিত করলো। সেই বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে প্রতিশোধের কথা ঘোষণা করলো। এখন গাজাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের শুরু এভাবেই।

আরেকটা পয়েন্ট হলো, মোহাম্মদ আবু খোদায়েরের সন্দেহভাজন তিন খুনিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইসরাইলিদের সাথে কোন অপরাধের জন্য কোন সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনীদেরকে কখনো ছেড়ে দেয়া হয়না।
ইসরায়েল তার সমন্বিত শাস্তি দেয়ার নীতি পুন:স্থাপন করেছে এবং সন্দেহভাজন প্রত্যেকটি স্থাপনায় আক্রমণ চালাতে থাকে।

ওরোনযাক: আচ্ছা আলি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার মিডিয়াতে গাজা ইস্যুটি কিভাবে আসছে বলে মনে করছেন?

আবুনিমাহ: কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ঘটনা ভয়ানক। এবিসি নিউজে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনা থেকে ফিলিস্তিনীরা তাদের মালপত্র সংগ্রহ করছিল। এবিসি প্রচার করে যে ইসরাইলিরা তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর থেকে জিনিসপত্র সংগ্রহ করছে। এখানে ইসরাইলিদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ফিলিস্তিনীদেরকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ ঘটনাটা পুরো উল্টো। এর জন্য এখন দু:খপ্রকাশ করেছে এবিসি নিউজ। কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। এটা ইচ্ছেকৃত না অনিচ্ছাকৃত এটা আসলে জানিনা। কিন্তু মূলধারার অনেকগুলো মিডিয়া অনেক ভুল খবর ছড়িয়ে যাচ্ছে।

১০ জুলাই এনপিআর এ দেনিয়েল এস্ট্রিন এর প্রতিবেদন শুনছিলাম। সেখানে প্রতিবেদক তার প্রত্যেকটি বাক্যের শুরুতে ‘ইসরাইল জানায়’ দিয়ে শুরু করছিল। মনে হচ্ছিল সে যেন সরকারের একটি প্রেস রিলিজ পড়ছে! নিউ ইয়র্ক টাইমসের ব্যুরো প্রধান জোদি রুদোরেন তার প্রতিবেদনের সব কথা ইসরাইলি আর্মির বরাতে লেখেছেন।

ওরোনযাক: আচ্ছা আলি, আপনি সংক্ষেপে লস এঞ্জেলেসে একটি র্যা লির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করুণ যেখানে ইসরায়েলের পক্ষে র্যা লিটি আয়োজিত হয়েছিল। ওখানে কি ঘটেছিল?

আবুনিমাহ: এটা মঙ্গলবার। আমি কয়েকদিনের জন্য লস এঞ্জেলেস এ ছিলাম। তখন একটা বড় র্যা লি আয়োজিত হয়। ফিলিস্তিনের উপর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কয়েকশত লোক ইসরাইলি কনস্যুলেট এর সামনে অবস্থান করে। কিন্তু এই র্যা্লিতে যাওয়ার আগে ইসরাইলের পক্ষে করা একটি র্যাযলিতে অংশগ্রহণ গিয়েছিলাম। এটা উইলশায়ার ব্যুলভার্দে আয়োজন করা হয়েছিল। ওখানে একজন অংশগ্রহণকারীকে জিজ্ঞেস করলাম কিভাবে আমরা এইসব সমস্যা বন্ধ করবো? তিনি বলেন এর জবাব হচ্ছে সব মুসলমানদেরকে শেষ করে দেয়া। তারপর সে মুসলিম বিরোধি স্লোগান দিতে থাকে। আমি অন্যদের সাথেও আলাপ করছিলাম। প্রো-ইসরায়েলি র্যা লির আরও অনেকে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সাথে ভিন্নমত প্রকাশ করে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে লস এঞ্জেলেস পুলিশ এসে আমার উপর হামলে পড়লো এবং আমাকে টেনে নিয়ে যেতে থাকলো, আমাকে হুমকি ধমকি এবং হাতকড়া পড়িয়ে ফেললো। আমার সব রেকর্ডগুলো মুছে দেয়ার পর এবং আর ভিডিও না করার শর্তে আমাকে ছাড়া হলো।

আমার মনে হচ্ছে আমি যখন ওই সব বর্ণবাদী কথাগুলো রেকর্ড করছিলাম তখন র্যা লির একজন নেতা আমাকে দেখে ফেলে এবং পুলিশকে ডাকে। এসব র্যাবলিতে মুসলিম বিদ্বেষ এবং ফিলিস্তিনীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

ওরোনযাক: আপনাদের সমালোচকদেরকে কি বলবেন যারা বলছে এমন ভিডিও রেকর্ড সহিংসতা ও দাঙ্গাকে উসকে দিতে পারতো? আপনিও তো আক্রমণের শিকার হতে পারতেন, তাই না?

আবুনিমাহ: আসলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পুলিশ। উপর থেকে করা অপর একটি ভিডিওতে আমার অবস্থান যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন এটা ছিল অত্যন্ত শান্ত আলাপ। আমি র্যা লিতে অংশগ্রহণকারীদের সাথে আগে পিছে হেটে ভিডিও রেকর্ড করছিলাম। অংশগ্রহণকারীরা জানতো তাদেরকে রেকর্ড করা হচ্ছে। আমি এটা প্রকাশ্যেই করছিলাম। ততক্ষণ পর্যন্ত কোন ভুল ছিলনা। কিন্তু যখন লস এঞ্জেলেস পুলিশ হামলা করলো, আমাকে ধাক্কাতে লাগলো, আমার হাতে হাতকড়া পড়ালো তখন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লো।

ব্লুমেনথাল: আমি কি কিছু যোগ করতে পারি?

ওরোনযাক: অবশ্যই ম্যাক্স, চালিয়ে যাও।

ব্লুমেনথাল: নিউ ইয়র্ক সিটিতে এমন র্যাালির ভিডিও করার জন্য আমি বিখ্যাত। ইউ টিউবে আমার ভিডিওগুলো দেখতে পারো। আমি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন নিয়ে তাদের কাছে যাই এবং প্রশ্ন করি এবং তারা কি ভাবে সেটা নিয়ে জিজ্ঞেস করি। পুলিশের সাথে আমার কোন সমস্যা হয়না। আমার সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার অধিকারে পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। আলিও এমনটিই করছিল। আমার মনে হয় আলিকে সন্দেহ করা হয়েছিল তার গায়ের রংয়ের জন্য। তার জলপাই রংয়ের জন্য তাকে পুলিশ জিজ্ঞেস করছিল, ‘তুমি কি ফিলিস্তিনীদের সাথে’?

ওরোনযাক: ওকে। ম্যাক্স ব্লুমেনথাল ও আলি আবুনিমাহ। অংশগ্রহণের জন্য আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ব্লুমেনথাল: আমাকে ডাকার জন্য ধন্যবাদ

ওরোনযাক: দি রিয়াল নিউজ নেটওয়ার্কে অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সূত্র: অনলাইন বাংলা

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s