চলমান গাজা সংঘাতের কারণ

Posted: July 19, 2014 in নিবন্ধ
Tags: , ,

প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে ১৭ জুলাই ২০১৪ -এর লেখা How the West Chose War in Gaza?Gaza and Israel: The Road to War, Paved by the West শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। এ নিবন্ধের আলোকে লিখেছেন জাহিদ রাজন।

যারা ভাবেন, হামাস তিনজন সেটেলারকে অপহরণের কারণে যুদ্ধ বেধেছে তারা হয় আসল জিনিস জানেন না, নয়ত মিথ্যা বলছেন।

২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ হয়েছে যার মধ্যে অন্তত দুটির কারণ ছিল হামাস অফিসিয়ালদের উপর তাদের বাসভবনে ইসরাইলের হামলা। এসব হামলা করার পর জঙ্গি বা সন্ত্রাসী এবং সেলফ ডিফেন্সের অধিকার আছে বলে দিলেই শেষ! এরপর যুদ্ধ শুরু।

ইসরাইল শুধুমাত্র খালেদ মিশালকে হত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে বিপদে পড়েছিল। কারণ মোসাদের এজেন্ট ধরা পড়েছিল জর্ডানে এবং জর্ডানের সাথে সে সময়ে শান্তি চুক্তি ছিল। এরপর ক্ষতিপূরণ হিসেবে হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিন সহ অন্য অনেক বন্দীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় যেটা তাদের জন্য ছিল বিরাট চিন্তার কারণ। পরবর্তীতে তারা শেখ আহমেদ ইয়াসিন এবং অন্য অনেক নেতাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়। এমনকি দুবাইয়ের হোটেলে তারা একজন হামাস অফিসিয়ালকে হত্যা করেছিল।

বাঘ যদি ভেড়াকে আক্রমণ করতে চায় তাহলে ভেড়া কি উজান থেকে পানি খাচ্ছে নাকি ভাটি থেকে পানি খাচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। তার উপর ভেড়াটা যদি হয় হামাসের মত যে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিবে না, হামলার জবাবে রকেট মারবে তাহলে ত কথাই নাই !

এই যে মালেশিয়ান এয়ারের বিমান বিধ্বস্ত হল এখানে যদি রাশিয়া না হয়ে মালি বা নাইজেরিয়া হত তাহলে এতক্ষণে হামলা শুরু হয়ে যেত। বছরের পর বছর ফ্রান্স কোম্পানি গুলো আফ্রিকার তেল, ইউরেনিয়াম সহ অন্যান্য সম্পদ লুট করে নিয়ে আসছে। হাজার হাজার লোক পানির অভাবে এবং তেজস্ক্রিয়তার কারণে মারা পড়ছে। যেই মালির বঞ্চিত মানুষেরা সেখানে একত্রীত হল এবং একটা অংশের স্বাধীনতা দাবি করল যেটি তারা ইতিহাসের অনেক সময় ধরে করে আসছে অমনি যোগ দিল আল কায়েদা এবং এর কিছু দিন পর ফ্রান্স সেখানে হামলা করল। এখানে জাস্টিস খোজার সুযোগ নেই। খেলার একমাত্র নিয়ম হলঃ জোর যার মুল্লুক তার।

অতএব, ইসরাইল গাজা আক্রমণের জন্য তিন জন অপহরণ করেছে হামাস এই গল্পের ধরণ অনেক পুরনো। হামাস অপহরণ করেছে এটা ইসরাইলের দাবি। এটি হামাস স্বীকার করেনি এবং ইসরাইল কোন প্রমাণও পেশ করে নি। আর করতেই বা হবে কেন আমেরিকা যার পকেটে ?

মুরসির সরকার পতনের পর হামাস স্পষ্টতই বিপদে আছে। রাফা বর্ডার বন্ধ, বিদ্যুৎ, পানি ওষুধ প্রবেশ বন্ধ। রাস্তার নোংরা পানি জমে গেছে এবং সময়ে সময়ে সেটা বাসায় প্রবেশ করছে। সাথে ৪৩ হাজার কর্মচারীর বেতন ভাতার ব্যবস্থা নাই। এ অবস্থায় হামাস ফাতাহর সাথে সমঝোতার চুক্তি করে, যদিও সে সরকারে হামাসের প্রায় কেউই স্থান পায়নি। উদ্দেশ্য কাতারের প্রতিশ্রুত টাকা ৪৩ হাজার কর্মচারীর মধ্যে বন্টন, মিশর যাতে রাফা বর্ডার কিছুটা শিথিল করে দেয় যাতে গাজার লোকজন কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচে।

এদিকে আমেরিকার তত্ত্বাবধানে আরম্ভ হওয়া শান্তি প্রক্রিয়ার সময় শেষ যেটি কার্যকর না হলে ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে বলে হুমকি দিয়েছিল। ইসরাইল এই আলোচনায় প্রায় কোন ছাড় দিতে রাজি হয় নি। নেতানিয়াহুর সাথে বারাক ওবামার জুটি বড়ই জম্পেশ। চমস্কি অনেক আগেই বলেছেন ওবামার আমেরিকা বুশের আমেরিকার চেয়েও আগ্রাসী যদিও এটা বোঝা যায় না। এর সর্বশেষ প্রমাণ ওবামা প্রশাসন ইসরাইলের সামরিক সাহায্য বৃদ্ধি করেছে, আগের ২.৩ বিলিয়ন থেকে এখন ৩.১ বিলিয়ন। আগে বিশ্বের যেসব জায়গায় আমেরিকান সৈন্যরা যুদ্ধ করত এখন সেখানে যোগ হয়েছে ড্রোন। অতএব, মুখে মুখে শান্তি আলোচনা বা কায়রোর সে মিষ্টি ভাষণ দিলেও ওবামা মিনস বিজনেস ! তাই বরাবরের মত ইসরাইলের সাথে আলোচনা ব্যর্থ।

ফাতাহ অথরিটি কয়েকবার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে বলে হুমকি দিয়েছে। এই অবস্থায় হামাসের সাথে সমঝোতা ইসরাইল ভালভাবে নেয়নি। যখন কাতার বেতন ভাতা বাবদ কর্মচারীদেরকে টাকা দিতে চেয়েছে আমেরিকা এবং ইসরাইল সাথে সাথে সেটা আটকে দিয়েছে। এমনকি জাতিসংঘের দূতের মধ্যস্থতায়ও এটা করা যায়নি। উল্টো এই দূতকে হামাসের জন্য টাকার সরবরাহকারী হিসেবে ইসরাইলের অভিযোগের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা।

শেষ কথা,

যুদ্ধের কারণ:
১। হামাস ফাতাহ ঐক্যমতের সরকারের পতন ঘটানো।

২। মুরসির পতনের পর অপেক্ষাকৃত অসুবিধাজনক অবস্হাথানে আছে হামাস যাদেরকে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি এবং মিশর সন্ত্রাসী ঘোষণা দিয়েছে। তাদেরকে আরও দুর্বল করা এবং তাদের কিছু নেতাকে হত্যা করা।

৩। ইরাকে আইএসআইএল কে নিয়ে ডিল করার আগে সবার দৃষ্টি এদিকে নিয়ে আসা এবং আরব রাষ্ট্রগুলোকে এদিকে ব্যস্ত রাখা যাতে আমেরিকা আইএসআইএল এর ব্যাপারে তাদের পলিসি ঠিক করে নিতে পারে।

৪। যুদ্ধবিরতির নামে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া শান্তি আলোচনা খেলাটা আবার শুরু করা । ইসরাইল চায় আলোচনাটা চলুক এবং সমাধান না হোক। শান্তি আলোচনা না চললে আমেরিকার সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এবং সমর্থন পেতে সমস্যা হবে।

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s