গাজা সংকট: সমালোচনা নয়, দরকার আত্মসমালোচনার

Posted: July 20, 2014 in নিবন্ধ
Tags: , , , , , ,

লিখেছেন AIR

গাজায় ইসরাইলের আক্রমণের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলো নীরব কেন, ওআইসি নীরব কেন, আমেরিকা কেন ইসরাইলের পক্ষে কথা বলে, জাতিসংঘ কেন নীরব ইত্যকার নানা প্রশ্ন নিয়ে অনেকের অনেক সমালোচনা, কী বোর্ডে যুদ্ধ । প্রশ্ন যৌক্তিক, কিন্তু ব্যাখ্যা?

আরব দেশগুলা সেই সাদ্দামকে উৎখাতের সময়, অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম এর সময় আমেরিকার কাছে দাসখত দিয়েই দিয়েছে। আর মিসরে যে ছিছি নামের একজন শাসক আছে, যার সাথে গাজার সীমান্ত, সে তাকে ক্ষমতায় বসানোর পুরষ্কার হিসাবে ইসরাইলের কী কী ভাবে সেবা করা যায় সেই উপায় নিয়ে ব্যস্ত। আপনাদের ছিছি’র মত শাসকই পছন্দ। তাইলে আর কি আশা করেন?

আর আমেরিকা, জাতিসংঘ ইসরাইলের পক্ষে কথা বলবে, ক্ষেত্র বিশেষ চুপ থাকবে এ তো নতুন কিছু না। global governance সম্পর্কে একটু জানেন। আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তার অনুগত আর মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে এই জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ন্যাটো, আইএইএ ইত্যাদি নানা ইন্সটিটিউশন গড়ে তুলেছে, এগুলার ডিশিসান নেয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে রেখে দিয়েছে, সারা বিশ্বের উপর খবরদারি করার জন্যই। সেখানে আপনার বা আপনাদের ভূমিকা আর মর্যাদা কি জানেন তো?! আপনাদের যে কোন সিদ্ধান্ত বাতিল করার ক্ষমতা রাখে UN সিকিউরিটি কাউন্সিল। অথবা পাঁচ শক্তির যে কোন একজনের ভেটো পাওয়ার। আপনাদের সাতান্নটা রাষ্ট্রের একশত বিশ ত্রিশ কোটি মানুষের কারো এই ক্ষমতা নাই। তো আংগুল চুষেন আর নয় তো ললিপপ খান, আর নিজের দেশে বড় বড় বুলি আউরায়ে রাজনীতির মাঠ গরম করেন! লিডারশীপ নিতে হলে জ্ঞান আর যোগ্যতা লাগবে, গবেষণা লাগবে, উদ্ভাবন লাগবে। তার জন্য জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করা লাগবে। জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার সময় কই আপনার? বিশের তিনশো সেরা ইউনিভার্সিটির মধ্যে আপনার একটাও নাই, আপনার দেশে একটা আছে এক সময় যাকে নাকি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হত। সেটা এক হাজারটার মধ্যেও নাই। তো এই মানের শিক্ষা আর জ্ঞান দিয়ে কতদুর যাইতে চান?

মনে আছে নাইন ইলেভেনের সময়ে কন্ডোলিজা রাইসের কথা? America will remake the world, and it must be in America’s own image. আপনি বা আপনার দেশ আজ কি করবেন তা এখনও ঠিক করতে পারেন নাই, সেখানে ব্রিটিশ, আমেরিকা, ইসরাইল ২০৫০ সালে কি করবে তার সব তথ্য উপাত্ত, হিসাব নিকাশ করে এ প্লান, বি প্লান ঠিক করে রেখেছে। আপনি জানেন কি কমিউনিজম ঠেকানোর জন্য আমেরিকা, তার বুদ্ধিজীবীরা, তার PEN এর লেখক সাংবাদিক কলামিস্টরা, সিআইএ সত্তর বছর দিন রাত কাজ করেছে, পৃথিবীর নানা দেশে ক্যু, পাল্টা ক্যু করেছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার’ রপ্তানীর নামে রেজিম চেইঞ্জ করেছে। তার পর ১৯৮৯ তে বার্লিন ওয়ালের পতন, এক বছর পর তাদের হাতে গড়া বরিস ইয়েলৎসিনের হাতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যখন তার সামনে আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকেনি তখন তাদের বুদ্ধিজীবী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা তাকে end of history বলেছিলেন।

কিন্তু একটা প্রতিদ্বন্দ্বী idea ছাড়া আমেরিকার রাজনীতি অর্থনীতি অচল। প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া খেলাও জমে না। তাছাড়া কয়েক যুগ কমিউনিজমের ফোবিয়ায় বুদ আংকেল স্যাম আর তার ইউরোপীয় গুণমুগ্ধদের নতুন কোন বটিকা না দিলে এডভেঞ্চার হয় না। তাই হান্টিংটন, পাইপরা ইসলামকে খাড়া করেছে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরুপে। মাথামোটা সাদ্দাম আমেরিকার টোপ গিলে কুয়েত আক্রমণ করে; আর নাইন ইলেভেন এর ঘটনা দিয়েছে সেই সুযোগ। এই নতুন বটিকার নাম ইসলামোফোবিয়া।

রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম আছে মুসলিম বিশ্বে। স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম দেশুগুলো হয়ে উঠেছে তার রাজনীতির hot spot। কিন্তু শুধু মুসলিম দেশ হলেই হবে না। সম্পদ থাকা চাই। ১৯৩০ সালের মহামন্দা আর ৭৩ এর আরব দেশগুলোর তেল অবরোধ আমেরিকাকে দুইটা গ্রেট লেসন দিয়েছে, তা হলো অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে হবে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আর বিশ্বের জ্বালানী ক্ষেত্র গূলোর উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। না হলে american dream পরিণত হবে american nightmare এ। তাই তারা ম্যাক্রো অর্থনীতির জন্ম দিয়েছে, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, WTO জন্ম দিয়েছে, নতুন নতুন পলিটিক্যাল থিউরির জন্ম দিয়েছে, সেগুলা বাজারজাত করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের রাজনীতি অর্থনীতির উপর তাদের খবরদারি অব্যাহত রেখেছে। নিউ ইকনমিক ওয়ার্ল্ড অর্ডার এর সাথে নিউ আমেরিকান অর্ডার যোগ হয়েছে। ইঙ্গ-মার্কিন চক্র তাই মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল নামক একটি টেস্ট টিউব রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে, আর এই রাষ্ট্রকে তার লালন পালন করে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ ইসরাইল তো তাদের সোনার ডিম পাড়া হাঁস। ইসরাইলের হুমকিতে আরবরা বেশী বেশী তেল তুলে কম দামে বেচবে, আর সেই ডলার দিয়ে পশ্চিমের অস্ত্র কিনবে। দুই ধারি ব্লেড। কম দামে তেল। বেশী দামে অস্ত্র। আর অস্ত্র বেচা সেই ডলার দিয়ে পশ্চিমের capital accumulation, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, রিসোর্স এন্ড রিসার্চ। কয়েকদিন পর অস্ত্র পুরোনো। সিস্টেম আপগ্রেডেশন নিডেড। নতুন অস্ত্র কেন। না কিনতে চাইলে আর একটা যুদ্ধ বাধাও। প্রয়োজনে নিজেদের মধ্যে, শিয়া সুন্নি, মাহদি আর্মি বনাম আইসিস। বাশার, এন্টি বাশার। হামাস ইসরাইল। গেম টু বি কন্টিনিউড….

আরবরা নিজেদের ঘর সামলাতে ব্যস্ত। আপনি?
সমালোচনা, বিতর্ক হতেই পারে, তবে আয়নায় একটু নিজের মুখটাও দেখেন! কোনটা বেশী দরকার সমালোচনা, না আত্মসমালোচনা??

আপনার দেশেও তো পনের কোটি মুসলমান, বিশ্বের মোট মুসলিম জনসংখ্যার আট ভাগের এক ভাগ। ইসরাইলের জনসংখ্যার আঠার গুণ। সংখ্যায় তো আপনিও কম যান না। কিন্তু আপনি কি করছেন? পনের কোটি মানুষ দুই টাকা করে দান করলেও তিরিশ কোটি টাকা। কয় টাকা আপনারা দিতে পেরেছেন? দিতে চাইলেও পারবেন কি? গাজা একটা পৃথক ভূখন্ড, আলাদা সরকার হলেও ইসরাইলের অনুমতি ছাড়া একটা মাছিও ঢুকতে পারে না। তো গাজার মানুষ কি করবে?

আপনি/আমরাও তো ওআইসি’ র সদস্য। একবার মহাসচিব হওয়ার জন্য দৌড়ও দিয়েছিলেন। ওআইসি’র সদস্য হিসাবে আপনি কি করছেন?

ফেসবুকে ঝড় তোলেন। প্রশ্নপত্র হাতে ধরায়ে দিয়া লাখে লাখে মেধাবি পয়দা করেন।বেশী বেশী ইয়াবা খান। ফরমালিন দেয়া খাবার খান। রাজ্জাক হোটেলে সেহরি খেয়ে সেলফি পোস্ট করেন। সুইস ব্যাংকে একাউন্ট খোলেন। তাইলে আপনিও এগিয়ে যাবেন!

Before pointing fingers at others, make sure that your own hands are clean!

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s