আমাদের বীরেরা জানে কিভাবে ইসরাইলকে মোকাবেলা করতে হবে : খালেদ মিশাল

Posted: July 21, 2014 in সাক্ষাৎকার
Tags: , , , , ,

[গাজায় প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পাচ্ছে না ইসরাইলের  হত্যাকান্ড থেকে। তবে শক্তির ভারসাম্যে অনেক পিছিয়ে থাকলেও প্রতিরোধ করে যাচ্ছে গাজাবাসী। এই প্রতিরোধ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। দীর্ঘ দিন ধরে গাজার লোকজনকে কঠোর অবরোধের মাধ্যমে তিলে তিলে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে আসছে ইসরাইল। অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হামাস সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মিশাল গাজায় ইসরাইলি হামলার শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-মনিটরকে দৃঢ়ভাবে সে কথাই জানিয়েছেন। ইসরাইলের সামরিক শক্তি অনেক বেশি হলেও তারা হানাদার বাহিনী। আর হামাস লড়ছে মুক্তি সংগ্রামে। তাই ফিলিস্তিনিদেরই জয় নিশ্চিত বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি বলেছেন, প্রতিরোধ আন্দোলনের বীরেরা জানে, কিভাবে ইসরাইলকে মোকাবেলা করতে হবে। খালেদ মিশাল এখন কাতারে অবস্থান করছেন। কাতার থেকে নেয়া সাক্ষাতকারটি এখানে প্রকাশ করা হলো। অনুবাদ করেছেন হাসান শরীফ]

3145_1
আল-মনিটর : হামাস কর্মকর্তারা বলছেন যে, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইতোপূর্বে ইসরাইলি সৈন্য গিলাদ শ্যালিতের বিনিময়ে যেসব বন্দিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল তাদের মুক্তি না দেয়া হলে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নেবেন না। আপনি কি মনে করেন যে এই অবস্থান যৌক্তিক, বিশেষ করে ইসরাইল যখন গাজা উপত্যকায় তার অপারেশন বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এর ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে?

খালেদ মিশাল : হ্যাঁ, এটা যৌক্তিক। বাস্তবে খুবই যৌক্তিক। কারণ গাজায় আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে সাত বছরের নির্মম অবরোধের ফলে (আমাদের জনগণ) ধীরে ধীরে মৃত্যুকে দ্রুত মারা যাওয়ার সাথে তুলনা করতে শুরু করেছে। গাজার জনগণের মনোভাব এটাই, আপনি তাদের কাছ থেকে সরাসরি এ কথাই শুনতে পারেন। ইসরাইল তার আগ্রাসন সম্প্রসারিত করবে, এই হুমকিতে তারা ভয় পায় না। আগ্রাসন বন্ধ হবে না এবং গাজার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না এমন কোনো উদ্যোগ আমাদের জনগণ মেনে নেবে না। এ কারণেই মিসরীয় উদ্যোগ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

আমরা যুদ্ধ বা আরো রক্তপাত চাই না। কারণ দখলদারেরা আমাদের হত্যা করেছে, গ্রেফতার করেছে। আমরা আগ্রাসন, বসতি স্থাপন ও অবরোধের শিকার হয়েছি। আমরা দখলদারিত্ব ও অবরোধবিহীন সুন্দর জীবনযাপন করতে চাই। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গাজার মূল সমস্যা সমাধান, জনগণের ওপর থেকে অন্যায় অবরোধ প্রত্যাহার, জেরুসালেম ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি লঙ্ঘনের (যেমন গ্রেফতার, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া এবং নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া) অবসান করার এটাই সুবর্ণ সময়। মূল সমস্যা হলো দখলদারিত্ব, বসতি স্থাপন এবং (ফিলিস্তিনি ভূমির) ইহুদীকরণ।

আল-মনিটর : ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করছে যে, হামাস যোদ্ধারা বেসামরিক লোকজনকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, আল কাসেম ব্রিগেড বেসামরিক এলাকায় তাদের যোদ্ধাদের মোতায়েন করছে এবং সেখান থেকে রকেট নিক্ষেপ করছে।

খালেদ মিশাল : এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। গাজা উপত্যকায় এফ-১৬ বিমানগুলো যখন শত শত বসত বাড়ি  ধ্বংস করছে (উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কয়েক দিন আগে বাতশ পরিবারের ১৮ সদস্যের সবাইকে হত্যা করার মতো অপরাধ করেছে তারা), তখন ইসরাইলের গর্হিত অপরাধের এটা একটা অনৈতিক সাফাই। হামাস যোদ্ধারা নিজেদের কোরবানি দিচ্ছে, তারা তাদের জনগণের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে না, বরং তাদের প্রতিরোধ ঢাল হিসেবে কাজ করছে। দশকের পর দশক ধরে ইসরাইল আমাদের জনগণকে হত্যা করে চলেছে, তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক গণহত্যা চালাচ্ছে। তারপর ইসরাইল এগুলো ধামাচাপা দেয়ার জন্য এসব মিথ্যা কাহিনী ছড়াচ্ছে।

আল-মনিটর : বর্তমান সঙ্ঘাত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিপুল সামর্থ্য এবং হামাসের সীমিত শক্তির মধ্যকার ব্যবধানটি প্রকট করে তুলেছে। অনেক নারী ও শিশুসহ যেখানে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, সেখানে হামাসের রকেটে মাত্র একজন ইসরাইলি নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণকে যেখানে অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে, সেখানে কেন আপনারা যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী?

খালেদ মিশাল : এটা দুটি রাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ নয় যে, তাদের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য হিসাব করতে হবে। এটা হলো দখলদারিত্বের জোয়াল থেকে জনগণের মুক্তি পাওয়ার সংগ্রাম। এটা জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম। দখলদারদের প্রতিরোধের সময় বিশ্বের কোনো দেশের জনগণই শক্তির ভারসাম্যের হিসাব করে না। এটা করা হলে ইতিহাসে কোনো জাতিই  মুক্তি পেত না। আমেরিকা, ফ্রান্স, ভিয়েতনাম, দক্ষিন আফ্রিকা এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। আমাদের (যুদ্ধে) যত মূল্যই দিতে হবে, তা দখলদারিত্ব এবং বসতি স্থাপনের চেয়ে বেশি হবে না।

এই যুদ্ধ শুরু করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি কোনো কারণ ছাড়াই গাজা আক্রমণ করেছেন। তিনি অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ করে এবং তার সরকারের অভ্যন্তরে অবস্থা সুদৃঢ় করার জন্য এটা করেছেন। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত আমরা নেইনি। নেতানিয়াহু আমাদের ওপর এটা চাপিয়ে দিয়েছেন। আমাদের জনগণের হতাহতের কারণে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমরা কোনো পক্ষের হতাহত দেখতে চাই না। কিন্তু দখলদারিত্ব এবং অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম আমাদের জনগণের কাছে কেবল একটি বিকল্পই রেখে দিয়েছে  নিজেদের, নিজেদের ভূমি, নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য প্রতিরোধ সৃষ্টি করা। কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দখলদারিত্ব অবসানে আমাদের জনগণকে সহায়তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আমরা ফিলিস্তিনিরা ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য দখলদারিত্বের শিকার। বর্তমান বিশ্বে এটা শেষ দখলদারিত্ব। এর অবসানের সবচেয়ে ভালো সময় এখনই।

আল-মনিটর : যুদ্ধবিরতির জন্য আঞ্চলিক উদ্যোগের কথা হচ্ছে। কিন্তু মনে হচ্ছে, মিসর আগের মতো আর তেমন উদ্যোগী হচ্ছে না। আপনি কি মনে করেন যে হামাসের সাথে মিসরের টানাপড়েনের কারণে দেশটি হয়তো চাচ্ছে যে হামাসকে ধ্বংস করে দিক ইসরাইল।

খালেদ মিশাল : হামাসের প্রতি মিসরের নেতিবাচক অবস্থান অযৌক্তিক। আমরা মিসরীয় বিষয়াদিতে হস্তক্ষেপ করি না। কারণ সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা অন্যদের নিজস্ব ব্যাপারের প্রতি যেমন শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি, তাদের ব্যাপারেও তেমনি করি। সব আরব দেশ এবং বড় শক্তি মিসরের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য ছিল ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানো, বর্বর ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করা, গাজার ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করতে বাস্তবধর্মী পদপে নেয়া এবং দখলদারিত্ব ও বসতি স্থাপন থেকে জনগণকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা।

আল-মনিটর : মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে কি আপনার ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে? তারা কী বলছেন?

খালেদ মিশাল : আপনি জানেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা অযৌক্তিক আইন দিয়ে নিজেদের হাত বেঁধে রেখেছেন। এসব আইনের কারণে তারা হামাসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না। হামাস আমেরিকার বিরুদ্ধে আগ্রাসনমূলক কোনো কাজ করেনি। এসব আইন আমেরিকার স্বার্থসিদ্ধি করছে না, বরং ইসরাইলিদের স্বার্থ হাসিল করছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি ইস্যু সমাধানে মার্কিন ভূমিকার কার্যকারিতা দুর্বল করে দিচ্ছে। কারণ ফিলিস্তিনে হামাস হলো প্রধান প্রতিরোধ আন্দোলন। আমাদের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ না থাকায় আমেরিকাকে আরব, ইউরোপিয়ান ও অন্য মধ্যস্থতাকারীদের শরণ নিতে হচ্ছে।

আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ, গাজার ওপর থেকে অবরোধের অবসান এবং আমাদের জনগণকে দখলদারিত্ব ও বসতি স্থাপন থেকে মুক্ত করতে হামাসের আমরা আমেরিকা এবং মুক্ত বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে প্রস্তুত।

আল-মনিটর : গাজার আগের যুদ্ধগুলোতে মিসর সীমান্তের সুড়ঙ্গগুলোর মাধ্যমে হামাস সামরিক সহায়তা পেত। কিন্তু এখন কিছুই পাচ্ছে না। আপনারা কি এখন ইরান ও কাতার থেকে সহায়তা পাচ্ছেন?

খালেদ মিশাল : বর্তমান যুদ্ধের ব্যাপারে আপনি যে পরিস্থিতির কথা বলছেন, তাতে প্রমাণ হয় যে, কোনো বাধাই আমাদের জনগণকে তাদের অধিকার রক্ষার ইচ্ছা থেকে, আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে, অবরোধ প্রত্যাহার, দখলদারিত্ব এবং বসতি স্থাপনের জোয়াল থেকে মুক্তি পাওয়ার আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারেনি। গাজার জনগণের ওপর অবরোধ আরো কঠোর করতে এবং হামাসকে ধ্বংস করার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে এবং ব্যর্থ হতেই থাকবে। কারণ স্বাধীনতার ইচ্ছা এবং দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির ইচ্ছা যেকোনো বাধার চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমাদের ফিলিস্তিনি জনগণ সুশিক্ষিত হিসেবে এবং কঠোর অভিজ্ঞতার কারণে দৃঢ় বলে পরিচিত। সৃষ্টিশীলতা, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সহিষ্ণুতা এবং ধৈর্য ধরার ব্যাপারে আমাদের জনগণের অসীম সামর্থ্য রয়েছে। প্রয়োজন হলো আবিষ্কারের জননী এবং চাপের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে- প্রতিটি ক্রিয়ার একটি বিপরীত ক্রিয়া রয়েছে। পদার্থবিদ্যা, গণিত ও রসায়নশাস্ত্রের মতো এগুলো জীবনেরও নিয়ম।

আল-মনিটর : আল-মনিটর জানতে পেরেছে যে আল-কাসেম ব্রিগেড ইসরাইলের স্থল সেনা মোকাবেলায় সুড়ঙ্গ ও বুবি ট্রাপের বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে। আপনি কি মনে করেন, ইসরাইলি স্থলহামলা মোকাবেলায় হামাসের সামর্থ্য যথেষ্ট?

খালেদ মিশাল : আমরা গাজায় আকাশ, সাগর বা স্থলযুদ্ধ চাইনি বা কামনা করিনি। যা চলছে, তা আগ্রাসন, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধ নয়। তবে আমাদের ওপর স্থলহামলা চাপিয়ে দেয়া হলে প্রতিরোধ আন্দোলন তা মোকাবেলা করতে পারে। কিভাবে? এটা কাসেম ব্রিগেড ও অন্যান্য প্রতিরোধ আন্দোলন গ্রুপের দায়িত্ব। তারা এ ব্যাপারে আরো বেশি জানে। তারা তাদের কর্তব্য ও সামর্থ্য জানে। নেতা হিসেবে আমরা প্রতিরোধ আন্দোলনের বীরদের প্রতি, আমাদের জনগণের দৃঢ়তার প্রতি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী।

আমাদের উদ্দেশ্য ন্যায়সঙ্গত। আমরা আগ্রাসনের শিকার । আমরা অন্যায় ও আগ্রাসী পক্ষকে প্রতিরোধ করছি। আর তাই শত্রুর অনুকূলেই বিপুল ভারসাম্য থাকা সত্ত্বেও নিজেদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে ফিলিস্তিনিদের আত্মবিশ্বাস ইসরাইলিরা তাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে যতটুকু আত্মবিশ্বাসী তার চেয়ে অনেক বেশি। ভূমি মালিকের মনস্তত্ত্ব এবং যে চোর এটা চুরি করেছে তার মনস্তত্ত্বের মধ্যে পার্থক্য এটাই।

আল-মনিটর : গাজা যুদ্ধের সময়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, সেজন্য হামাস কর্মকর্তারা তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। এখন পর্যন্ত তিনি যে ভূমিকা রেখে চলেছেন সে ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য কোনো সমঝোতা করা হবে কি?

খালেদ মিশাল : এখন কারো অবস্থান মূল্যায়নের সময় নয়। আমরা ইসরাইলি দখলদারদের প্রচণ্ড আগ্রাসন মোকাবেলা করছি। তাই এখন আমাদের জনগণকে রক্ষা এবং আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যত মতপার্থক্যই থাকুক না কেন, যুদ্ধের আগে, যুদ্ধ চলাকালে এবং ভবিষ্যতে সমঝোতার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। নেতানিয়াহু সমঝোতা নস্যাৎ করতে চান। কিন্তু আমাদের চেষ্টা হবে সবসময় সেটা আরো বেশি বেশি কামনা করা।

ফিলিস্তিনি সমঝোতার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তা নস্যাৎ করার যেকোনো হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং তার প্রশাসনকে আহ্বান জানানোর জন্য এই সুযোগটি গ্রহণ করতে চাই। প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি নিয়ে সমঝোতা করা বিশ্বের যেকোনো জাতির মতো আমাদেরও সহজাত অধিকার। কারণ আমাদের জনগণের ইচ্ছা এবং তাদের স্বাধীনতার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু আমাদের জনগণের ওপর অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করা হলে তা আরো উত্তেজনা, রক্তপাত ও অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করবে।

ইসরাইলকে সহায়তার লক্ষে মার্কিন প্রশাসন অনেকবারই ফিলিস্তিনি ও আরবদের ওপর চাপ দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই নীতি ব্যর্থ হয়েছে। এবার আমাদের জনগণ, নেতৃবৃন্দের ওপর চাপ প্রয়োগ বন্ধ করুন, তাদের জাতীয় মুক্তির অধিকার, সমঝোতার অধিকার, গণতন্ত্রের ভিত্তিতে তাদের প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন। আরো ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য আপনাদের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনুন। এতে করে আপনারা যে সাফল্য পাবেন, তা বিশ্ব ভুলবে না।

সূত্র: অন্য দিগন্ত

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s