আল-কাসসাম ব্রিগেড: একটি পিস্তল থেকে একটি সংগঠিত সেনাবাহিনী

Posted: July 21, 2014 in খবর
Tags: , , ,

হামাসের আল কাসসাম বিগ্রেডের হাতে ধরা পড়েছে একজন ইসরাইলি সৈন্য। আরও দুই একজনকে ধরতে পারলে বড় কৌশলগত সাফল্য আসত। হামাসের এই সামরিক শাখা নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছে ‘দি মিডেল ইস্ট মনিটর‘। রিপোর্টটি অনুবাদ করেছেন জাহিদুল ইসলাম রাজন

85132_1

১৯৯০ সালের আগে হামাসের সামরিক শাখা সবার কাছে অপরিচিত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সে বছরে এ সামরিক শাখার কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

১৯৩৫ সালে ফিলিস্তিনের শহর ইয়া’বাদ এ ব্রিটিশ সৈন্যদের গুলিতে নিহত সিরিয়ান মুক্তি আন্দোলনের নেতা শহীদ ‘এজ্জেদিন-আল-কাসসাম’ এর নাম অনুসারে এ সামরিক শাখার নাম দেয়া হয় ‘আল কাসসাম’ বিগ্রেড। আল-কাসসাম বিগ্রেড এর প্রতিষ্ঠাতাদের মতে মুসলিম ব্রাদারহুডের সামরিক শাখার কার্যক্রম হামাস প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই ভিন্ন নামে চলে আসছিল যার মধ্যে রয়েছে- ‘ফিলিস্তিন মুজাহেদিন’ এবং ‘মাজদ’ এর মত গ্রুপ।

১ জানুয়ারি ১৯৯২ সালে এই বিগ্রেড তাদের প্রথম অপারেশনের ঘোষণা দিয়ে আত্নপ্রকাশ করে। এ ঘোষণায় বলা হয় এই আন্দোলনের একটি অংশ একজন ‘কাফরদরম’ স্থাপনায় দরনসশান নামের একজন রাবাইকে হত্যা করে। এ ঘোষণার মাধ্যমে হামাস আল-কাসসাম বিগ্রেড কে তাদের মিলিটারি শাখা হিসেবে ঘোষণা করে।শুরুতে সীমিত সংখ্যক সৈন্য নিয়ে শুরু করা এ বিগ্রেড এখন গাজার একটা বড় অংশ জুড়ে আছে কিন্ত পশ্চিম তীরে তাদের কোন উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায় না।

নিজেদের ২০’তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রচারিত এক বুলেটিন অনুসারে কেবল গাজাতেই তাদের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশী। এটি একটি সত্যিকারের সেনাদল যেটিতে সৈন্যদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে কোম্পানি, ব্যটালিয়ন এবং বিগ্রেড। বুলেটিন এ ঘোষণা দেয়া হয় যে, নর্দার্ন গাজা বিগ্রেড, গাজা বিগ্রেড, সেন্ট্রাল গাজা বিগ্রেড এবং সাউর্দার্ন গাজা বিগ্রেড নামে আল-কাসাসামের চারটি বিগ্রেড আছে।

এ সামরিক শাখা প্রথমে একটি পিস্তল নিয়ে শুরু হয়, এরপর অস্ত্রাগারে যোগ হয় একটি রাইফেল এবং এরপরে নিজেদের তৈরি মেশিন গান। ধীরে ধীরে “হোয়াজ” এর মত বিস্ফোরক যন্ত্র, আত্নঘাতি হামলার জন্য বেল্ট এবং দূর থেকে হামলার জন্য বিস্ফোরক যন্ত্র যোগ হয়।

আল কাসসাম বিগ্রেড ২০০১ সালের ২৬ অক্টোবর স্থানীয়ভাবে তৈরি রকেট দিয়ে ইসরাইলের ‘স্টেরট’ স্থাপনায় হামলা চালায়। এই রকেটের নাম ছিল “কাসসাম-১”। এটিকে টাইমস ম্যাগাজিন “একটি পুরোনো রকেট যেটি মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে পারে” নামে শিরোনাম করে। দ্রুতই “কাসসাম-২” উদ্ভাবিত হয় যেটি ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যবহার করা হয়। এই দলটি ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে সক্ষম রকেট তৈরি করেছে। এর মধ্যে ২০১২ সালের গাজার সাথে যুদ্ধে এম-৭৫ ব্যবহার করে। এ মাসের যুদ্ধে তারা ইসরাইলের হাইফা শহরকে লক্ষ্য করে আর-১৬৯ রকেট ব্যবহার করেছে। বিস্ময়করভাবে আল কাসসাম ১৪ জুলাই ইসরাইলের ভেতরের বিশেষ অপারেশনে অংশ নিতে সক্ষম এরকম তিনটি ড্রোন নির্মাণের ঘোষণা দেয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনীর মত আলকাসসাম বিগ্রেডের ইঞ্জিনিয়ারিং, এরিয়াল, আর্টিলারি এবং আত্নঘাতি স্কোয়াড রয়েছে। চলমান যুদ্ধে তাদের নৌ সেনাদের একটি দল ইসরাইলের আস্কেলন শহরে অবস্থিত সুরক্ষিত জাকিম সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করে প্রথম অপারেশনের ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের মোকাবেলার জন্য আল কাসসাম বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধন করেছে। মিলিটারি শাখা “আল-বাত্তার”, “আল-ইয়াসিন” নামের কামান বিধ্বংসী গোলা তৈরি করেছে যেটি ইসরাইলের প্রবাদতুল্য মেরকাভা কামান ধ্বংস করতে সক্ষম।

এছাড়াও তারা ইতিমধ্যে ইসরাইলের কিছু সেনাকে আটক করতে সক্ষম হয় যার মধ্যে একজন ছিল গিলাত শালিত। ২০০৫ সালে কর্তব্য পালনরত অবস্থায় তারা তাকে আটক করে। ২০১১ সালে ১০৫০ জন বন্দি ফিলিস্তিনির বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেয়। এই বিগ্রেড ২০০৮ এবং ২০১২ সালে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইসরাইলের প্রভূত ক্ষতি সাধনের ঘোষণা দিয়েছে। কাসসাম বিগ্রেডের বর্তমান প্রধানের মান মোহাম্মদ-আল-দেইফ। ইসরাইল তাকে হত্যা পরিকল্পনার তালিকার শীর্ষে রেখেছে এবং একাধিক বার তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তাকেই ইসরাইল আল-কাসাসামের সকল আক্রমণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s