সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন সক্রিয় থাকবেন

Posted: July 23, 2014 in ব্লগ
Tags: , ,

লিখেছেন চিন্তিত চিন্তাবিদ

বিভিন্ন ইস্যুতে আমাদের একটা প্রশ্ন করতে দেখা যায় এই যে এত স্ট্যাটাস দেই, টুইট করি, ছবি শেয়ার করি এতে আদৌ লাভ হয় কি? আমাদের কথা তো আর কেউ শোনে না। অনলাইনে ঝড় তুলেই লাভ কি?

সোশাল মিডিয়াতে সক্রিয় থাকার প্রয়োজনীয়তাটা চ্যানেল ফোরের ব্লগে চার্লস ম্যাসনের Why Israel is losing the social media war over Gaza শীর্ষক আর্টিকেলটি পড়লে আরো ভালোভাবে বোঝা যায়। তিনি প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়েছেন গতানুগতিক মিডিয়া কিভাবে সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সোশাল মিডিয়ার কাছে হেরে যাচ্ছে।

গতানুগতিক মিডিয়াতে একটা খবর আসার আগে তাকে নানাভাবে রাঙ্গিয়ে-মুছিয়ে, নিজেদের মতো করে প্রকাশ করা হয়, যার ফলে খবরগুলো হয় একচোখা। আর অন্যদিকে সোশাল মিডিয়াতে খবরগুলোতে রঙ চড়ানোর সুযোগ থাকে না, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শক্তিশালী কোন ছবিসহ আপনার কাছে মুহুর্তে পৌছে যায়, কোন মধ্যম ব্যক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই। ফলে খবরগুলো হয় অনেক বেশি জীবন্ত ও সত্য। রিপোর্টাররা গ্রাউন্ডে থেকে কোন রকম এডিটরের/বসের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কিছু খবর প্রকাশ করতে পারছে। যেগুলো অন্যান্য মিডিয়ার চেয়ে বিবেককে জাগ্রত করতে সক্ষম হচ্ছে অনেক বেশি। মানুষও এখন সোশাল মিডিয়াতে কোন বিষয় সম্পর্কে জানতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আমেরিকার মতো প্রো-ইসরায়েলী দেশে সোশাল মিডিয়ার কারণে মতামতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গাজা ইস্যুতেই দেখা গেছে টুইটার ও ফেসবুকের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি মৃত শিশুদের ছবি দিয়ে অনলাইন সয়লাব হয়ে গেছে। বিশ্বের পক্ষে সেটা থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। মানুষ মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। যার কিছু নিদর্শন আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিলে, সেলেব্রিটিদের প্রতিক্রিয়ায়, সাধারণ মানুষের ইসরায়েলের প্রতি ধিক্কারে। ফিলিস্তিন থেকে মেসেজগুলোতে দেখা যাচ্ছিল নিরীহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, মৃত্যু। অন্যদিকে ইসরায়েল এক হামাসের রকেটের অজুহাত দিয়ে খুব একটা কুলিয়ে উঠতে পারেনি, কারণ হাজার হাজার ফটো দেখার পর মানুষ সিদ্ধান্ত যা নেয়ার নিয়ে ফেলেছে। এমনকি নেতানিয়াহু হামাসের খোড়া টানেলের ছবিসহ টুইট করেও সেই মঞ্চস্থ খবর আর ফটো দিয়ে মানুষের মন ঘুরিয়ে দিতে সম্ভব হয়নি। আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি এবারকার যুদ্ধটা সবার শেয়ার করা ছবিগুলোর কারণ হৃদয়ে অনেক বেশি রক্তক্ষরণ ঘটতে সক্ষম হয়েছে।

রাস্তার বিপ্লবের সাথে অনলাইনের বিপ্লবকে তুলনা করা ঠিক নয়, তবে এর প্রভাবকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রথমত আমরা আমাদের ভেতরের ফুসতে থাকা রাগ, আবেগ, দু:খ এখানে একে অন্যের সাথে প্রকাশ করতে পারি। অন্যের সচেতনতা দেখে নিজের বিবেককে জাগ্রত করতে পারি, কিছু করার জন্য উদ্যমী হতে পারি। অনেকের গবেষণামূলক পোস্ট থেকে তথ্য/ইতিহাস/বিশেষজ্ঞ মতামত জানতে পারি। সুতরাং অনলাইনে সোচ্চার থাকাটা একদম ফেলনা নয়। আমাদের কোন ভালো মিডিয়া নেই বলে এতোদিন হায়হুতাশ করতাম, আল্লাহ আমাদের জেনারেশনকে সত্য প্রকাশের একটি মাধ্যম দিয়ে দিয়েছেন, আসুন সেই সুযোগকে সর্বাত্মকভাবে কাজে লাগাই।

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s