গাজাকে সমর্থন দিতে কেন টুইটারে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবেন, ফেসবুকে নয়

Posted: July 25, 2014 in ব্লগ
Tags: , , ,

লিখেছেন জিয়া হাসান

ফেসবুক এবং টুইটারের পার্থক্যটা বোঝা জরুরী। টুইটার জিনিষটা পাবলিক ইউজের জন্যে তৈরি করা। এবং ফেসবুক জিনিষটা প্রাইভেট আলাপের জন্যে তৈরি করা। যদিও আমরা বাঙালিরা ফেসবুককে পাবলিক পোস্টের জন্যে ব্যাবহার করা শুরু করছি। বাস্তবতা হইলো, ফেসবুকে আপনি যেইটা লিখবেন সেইটার ভিজিবিলিটি যদি আপনি “পাবলিক” করেও দেন, তবুও সেইটা একটা সুনির্দিষ্ট লোকের কাছে পৌঁছাবে, যারা মূলত আপনার ফ্রেন্ড, সাবস্ক্রাইবার অথবা বেশি হইলে আপনার ফ্রেন্ড এবং সাবস্ক্রাইবারদের ফ্রেন্ড।বাকিদের কাছে পৌঁছাবেনা কারন, এইটা ফেসবুকের কাছে ব্যবসা। ফেসবুক চায়, আপনে তাদের এডারটাইজমেন্টটা ব্যবহার করেন।

ফেসবুক একটা এল্গরিদ্ম ব্যবহার করে,এর নাম এজর‍্যাঙ্ক।আপনার একটা লেখা কার কার কাছে পৌঁছাবে সেইটা নির্ভর করবে ফেসবুকের এই এলগরিদমের উপরে।

ফলে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আপনি ফেসবুকে একটা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে সেইটার ভিজিবিলিটি যদি “পাবলিক” না করেন, তাহলে সেইটা আপনার বন্ধুরা বাদে পৃথিবীর আর কারো কাছে পৌঁছাবেনা। এবং আপনার পোস্ট যদি “পাবলিক” হয়েও থাকে এবং সেই পোস্টে যদি আপনি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, সেইটাও খুব সীমিত লোকের কাছে পৌঁছাবে যেইটা ঠিক করে দিবে, এজর‍্যাঙ্ক এলগরিদম।

পৃথিবীর কোন প্রান্তে কেউ যদি শুধু মাত্রএই হ্যাশট্যাগটাকে ক্লিক করে, তাহলেও … সে হয়তো আপনার পোস্টটা দেখতে পারবেনা। কারন, প্রথমে সে দেখতে পাবে তার বন্ধুদের, তারপরে তার বন্ধুদের বন্ধুদের এবং এই ভাবে সে তার এলাকার এবং এলগরিদম দ্বারা আর কিছু দূর আগাবে।

বাস্তবতা হইলো, আপনার হ্যাশট্যাগের বিশ্বব্যাপী ভিজিবিলিটি নাই।

কারন ফেসবুক এই ভাবে ডিজাইন করা।

হ্যাশট্যাগকে গুরুত্তপুরন মনে করা হয়, তার জারনালিস্টিক ভ্যালুর জন্যে কারন জারনালিস্টরা হ্যাশট্যাগকে এনালাইজ করে, পাবলিক সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারে। এইটা তাদের জন্যে জরুরী জিনিষ। কিন্তু, বাস্তবতা হইলো, ফেসবুক হ্যাশট্যাগ থেকে একটা জারনালিস্ট কোন ধরনের জারনালিস্টিক এবং টেকনিকাল ইনফরমেশান পায়না। যেমন কয় জন এইটা পোস্ট করলো, কোন কোন জায়গা থেকে করলো, পক্ষে কি বিপক্ষে কি , কয়টার সময় করলো, সেইগুলো কি পরিমান ছড়াইল বা শেয়ারড হইলো, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই জন্যে ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার খুব প্রচলিত নয়। কারন, এইটার তেমন কোন প্র্যাকটিকাল ইউটিলিটি নাই।

কিন্তু টুইটারের বিষয়টা আলাদা। টুইটার বিষয়টাই পাবলিক। এই জন্যে টুইটার জারনালিসটরা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে এই তথ্যগুলো পেতে পারে। টুইটারে এই জন্যে হাশট্যাগ খুব গুরুত্তপুরন জিনিষ। আপনি যখন টুইটারে একটা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করবেন, সেইটা যখন লক্ষ লক্ষ লোক একই ধরনের হ্যাশট্যাগ দেয়, সেইটা বিভিন্ন ধরনের ট্রেন্ডিং টুলস দিয়ে ধরা পরবে। সেইটা বিশ্বব্যাপী জারনালিস্টরা ব্যবহার করে। সেইটা পলিটিশিয়ানদের নজরে পরে। এইটা বিশ্বজনমতের একটা ইন্ডিকেটর হিসেবে দেখা হইতে পারে।

কিন্তু, ফেসবুক … নাডা। পিরিয়ড।

প্যালেস্টাইনিদের প্রতি সমর্থন দেখানোর জন্যে আপনি সব ধরনের কাজই করতে পারেন। তাকে ক্রিটিকালি নেয়ার কিছু নাই।

কিন্তু, আমি বলবো এমন কিছু করেন, যা সত্যি কিছু হলেও কাজ দিবে। এটলিসট টুইটারে একটা একাউন্ট করে, টুইটার দিয়ে শুরু করেন।

ভুল টুলস দিয়ে ভুল কাজ করার কোন পয়েন্ট নাই। প্লিজ।

বরং আমি বলি সত্যিকারের একটা কাজ করেন। মারকিন, ইজ্রায়েলি কোম্পানিদের কিছু পন্য বর্জন দিয়ে শুরু করেন। বিশ্বাস করেন, মুসলমান বিশ্ব যদি সচেতন ভাবে মারকিন এবং ইজ্রায়েলি মালিকানার পন্য বর্জন করা শুরু করে, তাহলে সত্যিই দেখবেন ইজ্রায়েলের উপরে কর্পোরেট বিশ্ব এমন চাপ দিছে যে, তারা প্যালেস্টাইনে গনহত্যা বন্ধ করবে।

সেই মুভমেন্টের একটা পার্ট হওয়াই আপনার দায়। ফেসবুকে হ্যাশট্যাগের মত ইনেফক্টিভ এবং অজ্ঞানতা প্রসুত কাজ করে, নিজেকে দায়মুক্ত কইরেন না।

পারলে কঠিন কাজটা করেন। ফেসবুক ইহুদিদের পন্য, পেনড্রাইভ ইজ্রায়েলিদের বানানো – এই সব আলাপে কনফিউজড হইয়েন। আপনি যেইটা চান সেইটা হইলো, ইম্প্যাকট সৃষ্টি করা। আপনি যদি কিছু প্রোডাক্ট দিয়েও শুরু করেন, সেইটার ইমপ্যাক্ট হবে। এরপরে ধীরে ধীরে আপনার সেই ব্যানের লিস্ট বাড়াবেন। কনফিউজড হওয়ার দরকার নাই। দেখেন কোন গুলো দিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন।

আপনি চেষ্টা করলে পারবেন।

 

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s