আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে হামাস

Posted: July 27, 2014 in নিবন্ধ
Tags: , , ,

86340_3গাজার পশ্চিম তীরে জনপ্রিয় হচ্ছে হামাস। ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলে হামাস পশ্চিম তীরের অধিবাসীদের মন জয় করে নিচ্ছে।

মেহের আল নাদেন নামে একজন রাস্তা পরিস্কারকারী বলেন তিনি গাজা অবরোধের প্রতিবাদে ইসরাইলের তৈরি সব পণ্য কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন।

‘অন্তত এটা তো আমরা করতে পারি’, পশ্চিম তীরের বাসিন্দা এই ফিলিস্তিনি তার হতাশা ব্যক্ত করে বলেন।

তিনি গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী।

মেহের আল নাদেন নিজেকে সাধারণ জনগণের একজন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘আমরা এই শরণার্থী শিবিরে ৭০ বছর ধরে আছি। আর আমি আমার ছেলেকে হামাসকে দান করে দিয়েছি।’

তিনি গর্বের সাথে বলেন, হামাস গাজা থেকে ইসরাইলি বিমান বন্দরে এক রকেট মেরেই তেল আবিবগামী সব বিদেশি ফ্লাইট বাতিল করাতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার ছেলের বয়স ১০ বছর। সে আমার কাছে জিজ্ঞেস করছিল, ঐ লোকগুলোর (হামাসের সাথে) সাথে কিভাবে যোগ দেওয়া যায়।

ইসরাইল ও গাজার হামাসের মধ্যে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভয়ানক যুদ্ধ চলছে।

ইসরাইল বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের মাধ্যমে গাজা উপত্যকা ও শাজাইয়া এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। তাদের হামলায় ৮ শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক হাজার।

ইসরাইলের এই নগ্ন হামলার জবাব দেওয়া শুরু করেছে হামাসের যোদ্ধারা। হামাস এ পর্যন্ত ৯০ ইসরাইলি সৈন্য হত্যা করেছে এবং তারা প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কাল টি-শার্ট পরা হাজার হাজার ফিলিস্তিানি পতাকা বহন করে মিছিল নিয়ে  আল আমারি থেকে কালানদিয়া চেকপয়েন্টে আসে।  আর তারা শ্লোগান দিচ্ছিল, আমরা সবাই গাজাবাসী।

কাসসাম বিগ্রেডের সৈন্য [ফাইল ফটো]

কাসসাম বিগ্রেডের সৈন্য [ফাইল ফটো]

এই মিছিলের সামনের সারিতে বেশ কয়েকজন মুখোশ পরা যুবক ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ও আতশবাজি ছুড়ছিল। তারা গর্জন দিয়ে বলছিল, আমাদের হৃদয় এবং রক্ত দিয়ে আমরা গাজাকে মুক্ত করব।

প্রায় দশ হাজার ফিলিস্তিনির এই মিছিলে ইসরাইল হামলা চালায়। এতে দুই জন নিহত হয়।

একটি দোকানের মালিক ইলিয়াস সা বলেন, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তিনি হামাসের গানের ৩০০ সিডি বিক্রি করেছেন। এটা এখন বেস্ট সেলার।

স্বয়ংক্রিয় বন্দুকের গুলির শব্দে ওই গানের অর্থ হচ্ছে- এ ভূখণ্ডে ইহুদি পেলেই আক্রমণ করো।

এর পাশেই আরেকটি দোকানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় প্লাস্টিকের বন্দুক ও গ্রেনেড।

তিন মাস আগে হামাসও আর্থিকভাবে দুর্বল এবং কুটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে হামাস তাদের এই দুর্বলতার কারণে ফিলিস্তিন সরকার প্রধান মাহমুদ আব্বাস এবং তার সেক্যুলার দল ফাতাহের সাথে একটি ঐকমত্যের সরকার গঠন করতে সম্মত হয়েছিল।

দল হিসেবে হামাস ইসরাইল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। পশ্চিমা গণমাধ্যম হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন বলে বিবেচনা করে। আর্থিকভাবে দুর্বল এবং কুটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন সেই হামাস এখন আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গাজার যুদ্ধে হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। পশ্চিম তীর এবং গাজার অধিবাসীদের কাছে হামাস এখন সশস্ত্র প্রতিরোধের চ্যাম্পিয়ন বলে পরিচিত।

অন্যদিকে মাহমুদ আব্বাস ও তার দল ফাতাহ ইসরাইলের সাথে শান্তি চুক্তির পক্ষে বক্তৃতা দিয়ে আসছে। কিন্তু তারা ন্যুনতম শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাছাড়া ২০ বছর ধরে আলাপ আলোচনা করেও তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর তাদের এসব ব্যর্থতার কারণে জনগণ এখন তাদের প্রতি বিরক্ত।

হামাসের সাথে ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠার পর ইসরাইল আব্বাসের প্রতি তাদের সমর্থন তুলে নিয়েছে। পশ্চিম তীরে হামাসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় আব্বাস এখন চাপের মুখে রয়েছেন। তবে হামাসের সাথে ঐকমত্যের সরকার ভেঙে দেওয়ার ইসরাইলি দাবি কার্যত আর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি হামাসের প্রতি তার সমর্থন জোরালো ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।

তিনি ‘গাজায় ইসরাইলের বর্বর আক্রমণের’ নিন্দা করেছেন। তিনি হামাসের দাবি মেনে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

হামাসের দাবির মধ্যে রয়েছে- গাজা সীমান্ত খুলে দেয়া, ইসরাইল ঘোষিত তথাকথিত বাফার জোন বাতিল করা, বন্দি হামাস কর্মীদের মুক্তি এবং গাজার পুনর্গঠনের জন্য ডোনার সম্মেলন আহ্বান।

আব্বাস বলেন, ‘আমাদের গাজাবাসী-তোমাদের কষ্ট আমাদেরও কষ্ট।’

(গ্লোব অ্যান্ড মেইল অবলম্বনে জামির হোসেন)

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s