গাজা ইস্যু মুসলমানদের যে শিক্ষা দেয়

Posted: August 5, 2014 in ব্লগ
Tags: , ,

sejan mahmudলিখেছেন সেজান মাহমুদ

আমেরিকার যে কোন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে ইহুদীদের সন্তষ্ট রাখা বা ইজরাইলের প্রতি ধনাত্নক মনোভাব না জানিয়ে কেউ নির্বাচিত হতে পারেন না। কারণ আমেরিকার মিডিয়া এবং ব্যবসা এদের দখলে। আজকে বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাংবাদিক জেরেমি বৌয়েনকে সরানো হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কারণ তিনি লিখেছিলেন হামাস কর্তৃক গাজায় নারী এবং শিশুদের দিয়ে শিল্ড তৈরি করার প্রমাণ তিনি দেখেননি।

অন্যদিকে ক্ষমতায় আসার পরও আমেরিকার কোন প্রেসেডেন্ট যদি ইসরাইলের বিপক্ষে কিছু বলেন বা করেন সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দুর্বল কোন জায়গায় আঘাত আসে। যেমন এসেছিল ক্লিনটনের ক্ষেত্রে মণিকা লিউনিস্কি বা ওবামার ক্ষেত্রে তাঁর ইকোনমিক ফেইলর। এমনও কথা শোনা যায়, আমেরিকার বড় বড় সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, প্রেসিডেন্ট এবং এমন কি সিআইএ’র উচ্চপদস্থদের ব্যাপারে এফবিআইয়ের মতো নিজস্ব ফাইল আছে ইহুদীদের হাতে এবং সময় মতো তারা তা ব্যবহার করে।

আমার প্রশ্ন হলো আধুনিক যুগের রাজনীতিতে এগুলোর সব কিছুকেই তো বড় রকমের কৃতিত্ব হিসাবে ধরা হবে। এই কৃতিত্বগুলো কেন মুসলমানদের হাতে নাই? মুসলমান দেশগুলোর হাতে (যারা ধনী) অনেক টাকা, যা দিয়ে এখনও বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের চাবি কাঠি দখল করা সম্ভব। কিন্তু সৌদি, জর্দান, মিশর, আরব আমিরাত সবাই কিন্তু ইজরাইলের পক্ষে। এখানে আমেরিকাকেও দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে তাঁর অর্থনীতির ব্যার্থতা দিয়ে এবং কংগ্রেসম্যানদের (মূলত রিপাবলিকানেরা) নিয়ন্ত্রণ করছে নিজ নিজ এলাকার ইলেকশন দিয়ে। ওবামার ধমকেও তাই কোন কাজ হয় না।

আর এ রকম কৃতিত্বের সঙ্গে যদি যুক্ত হয় অমানবিক নির্মমতা এবং লোভ তাহলে তা ভয়ঙ্কর হতে বাধ্য। যেমন হচ্ছে গাজায়। লক্ষ্য করে দেখুন আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালগুলোতে কতগুলো উচ্চ ফান্ডের এন্ডাউমেন্ট প্রফেসরশীপ আছে যা ইহুদীদের অর্থে প্রতিষ্ঠিত; আর কতগুলো মুসলিমদের ফান্ডে এ রকম প্রফেসরশীপ আছে? এরা তো গবেষণা করে কাজ করে। অন্যদিকে মুসলিম দেশগুলোর লিডারেরা বরং বিলাসবহুল ইয়ট কেনা আর ফুর্তি করতে ব্যস্ত। মুসলিম দেশগুলো যতদিন এইসব স্ট্রাটিজিক প্ল্যানিং এবং শিক্ষা আর প্রযুক্তিতে মনোনিবেশ না করবে ততদিন এদের বুক চাপড়ানি এবং আবাবিল পাখির জন্যে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। এটাই দুঃসহ এবং নির্মম বাস্তবতা।

লেখক: অধ্যাপক, স্টেট ইউনিভার্সিটি সিস্টেম অব ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট।

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s