‘টিয়ারস অব গাজা’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: গাজার কান্নাকে ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী

Posted: August 14, 2014 in ভিডিও
Tags: ,

Tears of gazaনরওয়েজিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা ভিবেক লাকারবার্গ নির্মিত যুদ্ধবিরোধী মুভি টিয়ারস অব গাজা ২০১০ সালে প্রথম রিলিজ হয়। ২০১১ সালে আলজাজিরা ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফেস্টিভ্যালে শ্রেষ্ট ফিচার ফিল্ম হিসেবে মুভিটি হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। এই মুভি নিয়ে লিখেছেন সাইদ রহমান

এগার বছরের রাশমিয়া। জীবনের কি-ইবা আর বোঝা হয়েছে! করুণ চেহারায় দার্শনিকের মতো মাথা দুলিয়ে বলছে, লাইফ ইজ রিয়েলি হার্ড, রিয়েলি। যেন বাক্য নয়, এক তীব্র দীর্ঘশ্বাস পাক খেয়ে উঠছে ভেতর থেকে। সে বর্ণনা করছে, কীভাবে তাদের চোখের সামনে তাদের স্কুল পুড়েছে, তাদের বুকে আগলে রাখা বইগুলো পুড়েছে। অথচ এটি ছিল জাতিসংঘ পরিচালিত।

১৪ বছরের আমিরা। বোমার আঘাতে পা হারিয়ে ক্রাসে ভর দিয়ে হাঁটছে। ‘আমি ভালো করে পড়াশোনা করে আইনজীবী হতে চাই, কারণ আমি ভবিষ্যতে কোনো একদিন ইসরাইলকে আদালতে তুলব। আমি আমার দেশকে রক্ষা করতে চাই। কারণ আমার দেশকে তারা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।’ সে তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার বর্ণনা দিচ্ছে এভাবে, আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। এমন সময় বিকট শব্দে যেন পৃথিবীটাই কেঁপে উঠল। প্রচন্ড ধোঁয়া। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এরই সঙ্গে থেমে থেমে বিকট আওয়াজ। ধোঁয়া একটু কমার পর চোখের সামনে দেখি মিসাইলের আঘাতে ভাইয়ের ক্ষতবিক্ষত শরীর, গুলির বুলেট বাবার এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়া মাথা। আমার এক পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

১২ বছরের ইয়াহইয়া। রক্তাভ চেহারা। ছোট্ট শরীর যেন ক্লান্তিতে নুয়ে পড়ছে। ফিলিস্তিনের দুর্ভাগা শিশুদের প্রতীক হয়ে উঠছে যেন। ‘আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। কারণ আমি ইসরাইলি হামলায় আহত মানুষদের চিকিৎসা প্রদান করব। তাদের অপারেশন করব। তাদের বিনা চিকিৎসায় মরতে দেব না।’

এভাবেই পরিচালক এ কাহিনীতে তিনটি শিশুর আত্মকথাকে চিত্রায়িত করেছেন। এরা তাদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছে। ফিলিস্তিনের শিশুরা কী ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি, ছোট ছোট শিশুদের ভেতর কী ভয়াবহ রক্তক্ষরণ হচ্ছে- সেলুলয়েডের ফিতায় প্রযোজক স্বামী টারজে ক্রিসটেনসেনকে নিয়ে তারই কিছু চিত্রকে বন্দি করার চেষ্টা করেছেন পরিচালক ‘ভিবেক লাকারবার্গ’। পরিচালকের ভাষায়, ‘এটি (মুভিটা) দেখা অতটা সহজ নয়।’ যে মানবিক আবেদন এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা যে কোনো সভ্য মানুষকে নাড়া দেবে। ‘গাজার অশ্রু’ নামের এ প্রামাণ্যচিত্র ওইসব বেদনাকে চিত্রগ্রহণ করেছে যে, জায়নবাদীরা ফিলিস্তিনিদের ঘরে হামলা করার পর থেকে তারা এ যন্ত্রণায় ভুগছে এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।

এ ফিল্মটি প্রত্যেক আমেরিকানকে দেখতে হবে, তাহলে তারা বুঝতে পারবে তাদের খাজনার টাকা কীভাবে জায়নবাদীরা ফিলিস্তিনিদের হত্যার কাজে ব্যবহার করছে। অনুরূপভাবে প্রতিটি ইউরোপিয়ানকে দেখতে হবে, যেন তারা ইসরাইলের প্রকৃত চেহারা উপলব্ধি করতে পারে। প্রতিটি আরববাসীকে দেখতে হবে তাহলে তারা আর কখনোই অনুমতি দেবে না যে, জায়নবাদীরা ফিলিস্তিনিদের অত্যাচার করবে। ছবিতে আমেরিকা ও ইসরাইলের সব মিথ্যাচারকে প্রকাশ করা হয়েছে। তারা অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে আর বলে যে, আমরা ‘আত্মরক্ষার জন্য’ তাদের ওপর হামলা করি। এ ছবিতে সব বাস্তবতাকে শিশুদের নিষ্পাপ অন্তরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

বাবার এক সন্তান মিসাইলের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। আরেক আহত সন্তানকে বুকে জড়িয়ে বাবা বলছে, ‘আমি পৃথিবীকে বলতে চাই, ইসরাইল আমাদের সঙ্গে যা করছে এটা ঠিক হচ্ছে না। যা হয়েছে এটা যথেষ্ট, এটা যথেষ্ট।’ সন্তানহারা বাবার আর্তি পশ্চিমের বিবেকের দরজা খুলবে কি?

Advertisements

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s