Posts Tagged ‘ফিলিস্তিন সমস্যা’

মানবতার ডাকেই নরওয়ের ডাক্তার ম্যাড গিলবার্ট ছুটে গিয়েছেন গাজার আস- শিফা হাসপাতালে । দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন এই মানবতাবাদি চিকিৎসক । গত রাতে গাজায় জায়নবাদী ইসরাইলের বর্বর হত্যাযজ্ঞের পর তিনি এক খোলা চিঠিতে সেই হত্যাকাণ্ডের বর্ননা করেছেন। মিডল ইষ্ট মিনিটর থেকে সেটি অনুবাদ করেছেন নাজমী নাতিয়া

85133_1প্রিয়তম বন্ধুগণ,
গত রাতের তীব্রতা সমস্ত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। গাজায় স্থল আক্রমণের পরিণতি শুধু যত্র তত্র কাটা ছেঁড়া শরীর, গাড়িভর্তি আহত, দ্বিখণ্ডিত, রক্তে ভেজা, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনি মানুষগুলো। যারা সাধারণ, যারা নিষ্পাপ। যাদের বয়স কোন বাঁধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

গাজার এম্বুলেন্সগুলোতে, সব কয়টি হাসপাতালে বীরসন্তানেরা ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার শিফটে একনাগাড়ে কাজ করে যাচ্ছে। অমানবিক পরিশ্রম আর নিঃশেষ হয়ে আসা মানুষিক শক্তির দরুন তারা বিবর্ণ হয়ে উঠছে। তারা প্রত্যেকে গত চার মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে সেবা দিয়ে আসছে শিফা হাসপাতালে। তারা যত্ন নিচ্ছে, তটস্থ থাকছে এই ভেবে কার আগে কাকে চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। তারা বিশৃঙ্খলভাবে পরে থাকা দেহের, আঁকারের, অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বোধাতীত বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে নিস্তেজ, অক্ষম, রক্তাক্ত অথবা অসাড় মানুষগুলোকে জানতে। মানুষগুলোকে!

এ মুহূর্তে, আরো একবার “বিশ্বের সবচেয়ে নীতিবান সৈন্যবাহিনী” দ্বারা পশুর মত নিপীড়িত হচ্ছে মানুষগুলো ( এটাই হচ্ছে!)
আহতদের প্রতি আমার অপার সম্মান। কস্ট, অভিঘাত আর যন্ত্রণার মাঝেও তাদের এই অসাধারণ দৃঢ়চিত্তের প্রতি আমার সম্মান। কর্মচারী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আমার তারিফ অবিরাম। ফিলিস্তিনি “সুমদের” (ধৈর্য) প্রতি আমার ঘনিষ্ঠতা আমাকে শক্তি দেয় যদিও মাঝে মাঝে এর এক একটি ঝলকে আমার চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছে করে। কাউকে শক্ত করে ধরে কাঁদতে ইচ্ছে করে। রক্তে জড়ানো ওই উষ্ণ কোমল শিশুর ত্বক ও চুলের গন্ধ নিতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে, অনন্তকালের জন্য শক্ত আলিঙ্গনের মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করতে কিন্তু আমাদের যেমন সে সামর্থ্য নেই, তাদেরও নেই। (more…)

Advertisements

লিখেছেন আমান মাহবুব

পর্ব-১
যতদিন মুসলমানরা জ্ঞান ও যোগ্যতায় পশ্চিমাদের তুলনায় অগ্রসর হতে পারবে না, ততদিন প্যালেস্টাইনের এইসব বর্বর গণহত্যার মতো ঘটনার শিকার তারা হয়েই যাবে। অবৈধ ইজরায়েল রাষ্ট্র জন্ম নিয়েছে খুব বেশি সময় হয়নি। এর ভেতরেই তাদের উইপন ইন্ডাস্ট্রি শক্ত অবস্থানে দাড়িয়ে গিয়েছে। উজি সাবমেশিনগান আর ডেজার্ট ঈগলের মতো কোয়ালিটি হ্যান্ডগান সহ ট্যাংক, এপিসি, এমুনিশন এসব তারা নিজেরাই বানায়। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এডভান্সড রিসার্চ হয়। আর মুসলিমের দল দুম্বা দিয়ে ভরপেট ইফতার খেয়ে চিত হয়ে পড়ে থেকে বিশ্বকাপ অথবা হিন্দি সিনেমা দেখে যায়। ইহুদী রাবাইদের এক রাখার জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। এমনকি যেইসব ইহুদিরা জায়নিস্টদের বিরুদ্ধে বলে, তাদের ওরা ইগনোর করে যায়। বেশি একটা কনফ্লিক্টে যায় না। আর মুসলিমদের প্রথম কাজ হলো নিজেদের মধ্যে মারামারি করা। পৃথিবীটা যোগ্যতমদের জন্য। সুতরাং যুদ্ধ-বিগ্রহে আপাতত বিজয়ী ওরাই হবে। এটা স্বাভাবিক।

আর মাঝখান দিয়ে বলি হয়ে যায় নিস্পাপ শিশু আর নিরীহ মানুষজন। নারী বৃদ্ধ যুবক। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া মানুষগুলোর ছবির দিকে তাকানো যায় না।

ইজরায়েলের দখলদারী আর বর্বরতার জন্য পুরো ইহুদী ধর্মকে দায়ী করি না। বর্তমান পৃথিবীতে যদি ওহাবী ভিটামিনপুষ্ট আল-কায়েদার জিহাদী দল কোনরকম অলৌকিকভাবে জ্ঞানবিজ্ঞানে এগিয়ে যায় এবং প্রমিজড ল্যান্ড চিন্তা করে একটা দেশ বানিয়েই ফেলে, যার একটা জগাখিচুড়ি প্রটোটাইপ অলরেডি সউদ রাজবংশ সউদী আরবে বানিয়ে রেখেছে, তখন সে দেশটা যে ধরণের আচরণ করবে, ইহুদীদের আল-কায়েদা গ্রুপ ‘জায়নিস্ট’রাও ঠিক একই আচরণ করছে।

(more…)

প্রথম দফা:
মসজিদের বিপ্লব যা পরবর্তীতে ‘ইন্তিফাদা’ নামে খ্যাত যা ইসরাইলকে এই মুক্তি সংস্থাকে স্বীকার করতে এবং তার সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে, একে আরো শক্তিশালী ও বেগবান করতে হবে। এতে সকল ফিলিস্তিনির সমর্থন- জনগণ ও কর্তৃপক্ষ এবং সকল আরব এবং মুসলমানদের সমর্থন যোগাতে হবে এবং বিশ্বের সকল মুক্তিকামী মানুষের এর প্রতি সমর্থন নিতে হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হলো ইসরাইল। এটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসের রাষ্ট্র। এটি এমন রাষ্ট্র যার ভিত্তিই হলো জুলুম ও নির্যাতন, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা এবং ব্যক্তি ও পরিবারের অধিকার নস্যাৎ করা। ফিলিস্তিনী জনগণের সামনে একটিমাত্রই পথ- তা হলো প্রতিরোধ করা। প্রত্যেক জাতিরই অধিকার রয়েছে জবরদখলকারীকে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করার। মেনাহেম বেগীন যখন স্লোগান তুলে, ‘‘আমি লড়াই করব তাহলেই আমার অস্তিত্ব থাকবে।’’ তখন শায়খ আহমাদ ইয়াসীন (রহ.) এর পাল্টা স্লোগান তুলেন, ‘‘আমি প্রতিরোধ করব, তাহলেই আমার অস্তিত্ব থাকবে।’’ অবশ্যই আহমাদ ইয়াসীনের সত্য মেনাহেম বেগীনের বাতিলকে পরাভূত করবে। (more…)